রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে এক যুগান্তকারী ও বহুল প্রতীক্ষিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। দীর্ঘকাল ধরে রাজধানীর সায়দাবাদ এলাকা থেকে পরিচালিত দূরপাল্লার আন্তঃজেলা বাসগুলো এবার স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি সুবিশাল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নতুন বাস টার্মিনাল। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিকভাবে সায়দাবাদের আন্তঃজেলা বাসগুলোকে এই নতুন টার্মিনালে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে চলমান বাস টার্মিনাল নির্মাণের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং এর নানামুখী সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
প্রশাসক জানান, কাঁচপুর বাস টার্মিনালটি প্রায় ১২ দশমিক ৬ একর বিশাল জায়গাজুড়ে অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সাথে নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সুবিশাল টার্মিনাল চত্বরে পার্কিং অবস্থায় একসঙ্গে মোট ৩৭৮টি বাস নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে। আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি আদর্শ বাস টার্মিনালে যাত্রীসাধারণের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা আবশ্যক, তার সবকিছুই এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশস্ত কাউন্টার, নিরাপদ অপেক্ষাগার, আধুনিক শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ নানা ধরনের নাগরিক সুবিধাদি।
নির্মাণ কাজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ইতিমধ্যেই এই টার্মিনালের মূল সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজগুলোও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত মেয়াদের আগেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথে যানবাহনের দীর্ঘ জট ও বিশৃঙ্খলা বহুলাংশে কমে আসবে।
সায়দাবাদ থেকে বাস স্থানান্তরের পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রশাসক জানান, সায়দাবাদ থেকে কাঁচপুর টার্মিনালে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন আসা-যাওয়ার জন্য কার্যকর যোগাযোগ ও শাটল সার্ভিসের মতো উপযুক্ত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে গুলিস্তান এলাকায় যে বাসগুলো অবৈধ বা অপরিকল্পিতভাবে ওঠা-নামা করে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে সরিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত কাঁচপুর টার্মিনালে বিশেষভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রুটগুলোতে চলাচলকারী সব বাস রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত করা হবে।
পরিকল্পিত এই বাস টার্মিনালটি চালু হলে একদিকে যেমন রাজধানীর অভ্যন্তরে অতিরিক্ত যানবাহনের প্রবেশ ও চাপ কমবে, অন্যদিকে যাত্রী ও পরিবহন মালিক উভয়পক্ষই এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করতে পারবেন। নগর বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী ট্রাফিক জট নিরসনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ করে তুলবে।