রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো বর্বরোচিত ঘটনায় কেবল দলীয় বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণকেই যথেষ্ট বলে মনে করছেন না বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি লুণ্তঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে এই দাবি উত্থাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মিরপুরের ওই জনগুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক দখলের যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের গর্হিত অপরাধের পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে যে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে, তা মূলত পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে নেওয়া। কিন্তু এত বড় অপরাধের বিচার কেবল দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিরোধীদলীয় এই শীর্ষ নেতা আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, দেশবাসী এই বর্বরোচিত ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো লোকদেখানো ব্যবস্থা দেখতে চায় না; বরং তারা প্রকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে উদগ্রীব। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্পূর্ণরূপে লুণ্তঠিত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে টেকসই ও আধুনিক উপায়ে পুনর্নির্মাণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার ও দায়িত্ব রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুর-১ এলাকার ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। এই পুরো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তৎকালীন সময়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জোরালোভাবে জড়িয়ে পড়ে এবং তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। যদিও তিনি এই সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনরোষের সৃষ্টি হলে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড তাৎক্ষণিক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযুক্ত সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করার কড়া নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এই নির্দেশনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। দলীয় প্রধানের এই কঠোর ও অনমনীয় আদেশের পর আর কালক্ষেপণ না করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে সরাসরি উপস্থিত হন সংসদ সদস্য মিষ্টি। সেখানে তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন। স্পিকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিরপুরের জনস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে হামলার এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর ও ত্বরিত সাংগঠনিক পদক্ষেপ দেখা গেছে, অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমানের এই দাবি আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও চিকিৎসাকেন্দ্র সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।