ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ১৩ সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা জামায়াতের


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:১৪ এএম

নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা না করলেও, প্রচার ও প্রস্তুতিতে একধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত এবং স্থানীয় পর্যায়ের সুপারিশের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।

 

নির্বাচনমুখী কার্যক্রমে গতি আনতে এবং ভোটের মাঠে অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকার কৌশল হিসেবেই এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রতীক না থাকার বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে জনসাধারণের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং তরুণ-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত ব্যক্তিত্বদেরই প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সিটির মধ্যে রংপুরে এটিএম আজম খান, রাজশাহীতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, খুলনায় মাহফুজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জে মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, গাজীপুরে মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে আ.খ.ম. আব্দুল মালেক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন।

 

দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা যে ধরনের প্রার্থী দিচ্ছি, তারা নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলী ও যোগ্যতার অধিকারী। আশা করি, আমাদের প্রার্থীদের ব্যাপারে জনগণের একটি ইতিবাচক ধারণা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।” এদিকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমেই এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা স্ব স্ব সিটির দায়িত্বশীলদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে জনশক্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত প্রচার এবং মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের কাছে পরিচিত করানোর কাজ পুরোদমে চলছে। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। নেতাদের আত্মবিশ্বাস, ভোটারদের কাছে তাদের মনোনীত প্রার্থীরাই সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন।

 

তবে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আশাবাদের মাঝেও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। বিশেষ করে বর্তমান সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা যদি নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকেন, তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল মাঠ কতখানি বজায় থাকবে—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জামায়াত। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের অনুকূলে সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেয়, তবে সমতল মাঠের ধারণাটি আর টিকে থাকে না। তাই নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের বৈষম্যমূলক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার জোর দাবি জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর