মিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ন্যাক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুরে বিপর্যস্ত হওয়া এই জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শনে যান ডা. শফিকুর রহমান। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া চিকিৎসাকেন্দ্রটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পর তিনি এই অনুদানের ঘোষণা দেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।
ঘোষণা প্রদানকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আশা করছি, এই অনুদানের অর্থ দ্রুত হাতে পেলে প্রতিষ্ঠানটির ভেঙে যাওয়া অবকাঠামো কিছুটা হলেও সংস্কার করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে এই তহবিলের অর্থ দিয়েই প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করে পুনরায় মা, প্রসূতি ও শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে শুরু করা সম্ভব হবে।”
এ সময় সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, “এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি গত অর্ধশতাব্দী ধরে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক বা অনৈতিক এজেন্ডা নেই। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র লক্ষ্য। তাই সরকারের দায়িত্ব হলো অবিলম্বে এগিয়ে এসে এখানে একটি টেকসই, মজবুত ও শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও বড় ধরনের লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র মুখোশধারী দল অতর্কিতে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে। তারা ভিতরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিতরের সমস্ত মূল্যবান মালামাল ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভারী ও ধ্বংসাত্মক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ, কক্ষের দেয়াল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নির্মমভাবে ভাঙচুর করা হয়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
এই ন্যক্কারজনক ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার পর পরই ক্ষতিগ্রস্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই হামলার নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহল ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং লুট হওয়া চিকিৎসাসামগ্রী উদ্ধার করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।