ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাবার জন্য ছোট্ট তুবার আকুতি: ভাইরাল সেই ঘটনার পেছনের গল্প পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি, আটকে গেল রূপপুরের জ্বালানি যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ফিরল ইরানি শিশুরা দক্ষিণ আফ্রিকার একুরহুলেনি এলাকায় দুই মাসে ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার ইউরোপে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইইউ সতর্কতা দুই দফা মার্কিন হামলা থেকে যেভাবে বাঁচলেন মোজতাবা হরমুজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত মিয়ানমার সেনার বিমান হামলায় রক্তাক্ত রাখাইন, নিহত ৩৩ ও আহত ৩৬ আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে: খামেনি সাবেক বাণিজ্য মেলার মাঠে তল্লাশি, ২০টির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার

গণভোটের নামে নতুন তামাশা চলছে, সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি জাগপা নেতার


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৩১ এএম

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ও নতুন গণভোটের উদ্যোগ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি এক বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, সংবিধান ‘সংশোধনের’ ধুয়া তুলে সরকার নতুন করে যে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা মূলত একধরনের স্বৈরতন্ত্রের স্পষ্ট আলামত। জনগণের প্রকৃত দাবি ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত ‘সংস্কার’, নিছক ‘সংশোধন’ নয়। ইতিপূর্বেই সংবিধান সংস্কারের লক্ষে গণভোট সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণ বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়ে তা অনুমোদন করেছে। এমতাবস্থায় পুনরায় নতুন করে গণভোটের আয়োজন করাকে তিনি জাতির সঙ্গে নির্মম তামাশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।


গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক কড়া ভাষায় লেখা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাগপা মুখপাত্র এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বিভিন্ন যৌক্তিক প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যখন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে পৃথকভাবে গণভোট আয়োজনের দাবি জোরালো করা হয়েছিল, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে আলাদা গণভোটের আয়োজন করলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হবে। এমনকি সেই সময় খোঁড়া অজুহাত দিয়ে বলা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচনের দিন একই খরচে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন যুক্তিতে নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এতে কি রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হবে না? সরকারের এমন দ্বিমুখী নীতি ও অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এই রাজনৈতিক নেতা।


রাশেদ প্রধান আরও বলেন, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার কিংবা স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য সংবিধান সংশোধনের নামে অতিরিক্ত কোনো গণভোটের আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের জনগণ তাদের চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছে। তাই সরকারের উচিত কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে সেই গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। অন্যথায় দেশ, জনগণ ও সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বা গাদ্দারি করার দায়ে চরম রাজনৈতিক মূল্য পরিশোধ করতে হবে এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জাগপা নেতার এই সাম্প্রতিক ও কঠোর মন্তব্য দেশীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে সচেতন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর