ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে হঠাৎ করেই এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নানামুখী গুঞ্জন ও রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটাতে এবার একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সংসদ ভবনের নির্ধারিত প্রাঙ্গণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং সমালোচিত বিষয়—সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ ও সংশ্লিষ্ট নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার সরাসরি কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নির্ধারিত এই সংবাদ সম্মেলনে মূলত সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংবিধানিক পদক্ষেপগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। বিশেষ করে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যের পদত্যাগপত্র জমা পড়া, স্পিকারের তা গ্রহণ করা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে স্পিকার বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরবেন। সংসদ ভবনের টানেলের নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় মূলধারার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ-১ শাখার পরিচালক মনির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে পাঠানো এক জরুরি প্রেস বার্তায় এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। ওই বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনের টানেলের নির্দিষ্ট স্থানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন এবং বর্তমান সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদীয় শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোকপাত করবেন।
এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের নেপথ্যের পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকার সুপরিচিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জোরালোভাবে জড়িয়ে পড়ে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন এবং জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশের মুখে পড়ে এমপি মিষ্টি বাধ্য হয়ে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে নিজের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত আসনটি শূন্য ঘোষণা করে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
ঠিক এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরপরই স্পিকারের পক্ষ থেকে এমন একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই প্রেস ব্রিফিং থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, সংসদীয় শিষ্টাচার রক্ষা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক নিয়মাবলির কঠোর প্রয়োগ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে সারা দেশের নজর কেড়েছে।