আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জোরালো পর্যালোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসএসসি পরীক্ষা, পবিত্র মাহে রমজান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ঋতুভিত্তিক বাস্তবতাগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে একটি সুসংহত, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে ইউনেস্কোর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে ইসি সচিব দেশের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইসি সচিব জানান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির বিশেষ ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় একটি সুদূরপ্রসারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রাথমিক প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো— নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা।
বিশেষ করে বর্তমান ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অপতথ্য বা ডিসইনফরমেশন, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেইট স্পিচ কার্যকরভাবে প্রতিরোধের কৌশল রপ্ত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পেশাগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। তিনি পরিষ্কার করে উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগটি খাস করে একক কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়; বরং এটি একটি স্বাধীন, ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে প্রস্তাবনাটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতে এর মূল কনটেন্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচনের সময়সূচিসহ নানামুখী গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উঠে এসেছে। নির্বাচনকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও জনগণের কাছে আস্থাশীল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা প্রয়োজন সাপেক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবাসীর মনে আস্থার যে অনন্য উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, কমিশন যেকোনো মূল্যে সেই মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।
ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত রাখা, ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জামাদি যথাসময়ে মজুত রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইসি সব সময় আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।