ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনবান্ধব করে তুলতে মেগা প্রকল্প মেট্রোরেলের কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দেশের বৃহত্তম গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫ এর বিভিন্ন অবকাঠামো ও পূর্তকাজ নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল এক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মোট আটটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে লাইন-১ এর চারটি এবং লাইন-৫ এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইন-১ এর আরও দুটি এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের একটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে লাইন-১ এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫.১৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পথ বা সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ৪.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ এবং তিনটি আধুনিক ভূগর্ভস্থ স্টেশন— বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যাট ও করসহ এই অংশের কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল এবং টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সংকেত স্থাপনেও বড় বরাদ্দ মেট্রোরেলের লাইন-১ এর সিপি-০৯ প্যাকেজের আওতায় আধুনিক ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। এতে রেল, পয়েন্ট, ক্রসিং, ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার এবং ১,৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে। ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে এ কাজের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এছাড়া সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিপো ও উড়ালপথ নির্মাণ লাইন-১ এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর ওয়ার্কশপ ও অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নির্মাণে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং লাইন-৫ এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও ভাটারা পর্যন্ত ৬.৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি উড়ালস্টেশন নির্মাণে ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া রামপুরা থেকে নতুনবাজার অংশ, বালু নদ সংযোগ এবং ডিপো ভবন নির্মাণের আরও তিনটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত রূপ অনুমোদিত হয়। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দুটির মেয়াদকাল ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই মেগা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে।