ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এল নিনোর ছোবলে বাংলাদেশে ৬ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা! ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ গেল ১৫২ জনের ফেনীতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেহেশতের টিকেট বিক্রির নামে শিরকি কারবার চলছে: প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: ৬ থেকে ৮ মাসের আল্টিমেটাম ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা বিএনপির যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি মেট্রোরেলের দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন

স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্প্রতি সংঘটিত পৈশাচিক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে নিজের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নিকট নিজের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সংসদীয় কার্যকাল সম্পন্ন না করেই তাঁকে নজিরবিহীনভাবে সংসদ থেকে বিদায় নিতে হলো।


সংসদ সচিবালয় ও সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পদত্যাগী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ। দীর্ঘ সাক্ষাতের একপর্যায়ে তিনি স্পিকারের হাতে তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দেন। ওই পদত্যাগপত্রে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বাধীন ইচ্ছায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। স্পিকারের নিকট তাঁর পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে তা আইনগতভাবে কার্যকর করার বিনীত অনুরোধ জানানোর বাইরে অন্য কোনো অতিরিক্ত বা ব্যক্তিগত কারণ তিনি সেখানে উল্লেখ করেননি। এদিকে, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে তৎপর হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। তাৎক্ষণিকভাবে সচিবালয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ও জরুরি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে ফেরদৌসী আহমেদের সংরক্ষিত নারী আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে এই আকস্মিক পদত্যাগ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। জাতীয় সংসদের মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির কোটায় মোট ৩৬ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে মিষ্টি অন্যতম একজন ছিলেন। কিন্তু শপথ নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এমন একটি অনভিপ্রেত বিতর্কের জেরে তাঁকে সংসদ ছাড়তে হলো। দলের নীতি, আদর্শ এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে দল কোনো ছাড় দেবে না—এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


দলীয় উচ্চপর্যায়ের সূত্র ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা কাজ করেছে। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বুধবার রাতেই অভিযুক্ত ফেরদৌসী আহমেদকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। একই সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এমন কঠোর ও আপসহীন বার্তা পাওয়ার পরই মূলত তিনি সব ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পদ ছাড়ার এই চূড়ান্ত পথ বেছে নেন।


মূলত গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মুখোশ পরা দুই শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা ওই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর একপর্যায়ে পুরো ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সরাসরি ইন্ধন ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফেরদৌসী আহমেদ ওই সমিতির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। সেই সময় ওই সমিতির নামের অনুকূলে রাড্ডা সেন্টারের বহুমূল্য সরকারি জমি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছিল, যেখানে সভাপতি হিসেবে ফেরদৌসী আহমেদের নিজ স্বাক্ষর রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক আগের সেই সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় কিছু নেতার নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এমপি মিষ্টি।


সব মিলিয়ে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনমনে তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষ প্রশমিত করতে ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্যের এ ধরনের দ্রুত পদত্যাগ দেশের রাজনীতিতে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকল। অপরাধ কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার সামান্য অভিযোগ এলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—বর্তমান সরকারের এমন কঠোর মনোভাবের প্রমাণ হিসেবেই এই ঘটনাটি সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর