রাজধানীর
মাতুয়াইলে একটি ছাপাখানার তিন ট্রাকভর্তি চার লাখের বেশি মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই জব্দ ও মান যাচাই
নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে তুলকালাম কাণ্ড। প্রাক্-ডেলিভারি ইন্সপেকশনের সঠিক রিপোর্টের পরও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনসিটিবির মনিটরিং টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার
হস্তক্ষেপে বইগুলো আটকে রাখা হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট
মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনার
সূত্রপাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর,
যখন ‘অটো প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামক ছাপাখানা থেকে ৩টি ট্রাকে করে ৪ লাখ ৩০
হাজার ২৫৫ কপি মাধ্যমিকের পাঠ্যবই ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত করা হয়। বইগুলোর মান সঠিক রয়েছে বলে ইতিপূর্বে ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি ছাড়পত্র দিয়েছিল। তবে ৬০ শতাংশ বই
নিম্নমানের ছাপানো হয়েছে—এমন একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানোর পর দ্রুত ব্যবস্থা
নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এনসিটিবির মনিটরিং টিম ও দুটি গোয়েন্দা
সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তিন দিন ধরে বইগুলো আটকে রেখে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।
দীর্ঘ
যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর
মাত্র ১৪৬টি (শূন্য দশমিক ০৩৪ ভাগ) বইয়ের কাভারে সামান্য দাগ শনাক্ত করে তা বাতিল করা
হয়। বাকি ৪ লাখ ৩০
হাজার ২৫৫ কপি বই ডেলিভারির অনুমতি
দেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রশ্ন
উঠেছে যে, প্রাথমিকভাবে দাবি করা ৬০ শতাংশ নিম্নমান
কি আকস্মিক ভালো হয়ে গেল, নাকি ইন্সপেকশন এজেন্টের রিপোর্টই সঠিক ছিল?
এদিকে
ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসাইন অভিযোগ করেছেন যে, এনসিটিবির মনিটরিং টিমের আইনবহির্ভূত হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে
পাঠ্যবই সরবরাহে মারাত্মক বিলম্ব হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী পিডিআই বা প্রি-ডেলিভারি
ইন্সপেকশন করার কথা থাকলেও মনিটরিং টিমের অসহযোগিতায় প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই মাঠে
পৌঁছানোর কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিকের মাত্র ৫ শতাংশ বই
ডেলিভারি হয়েছে। এই ধীরগতি অব্যাহত
থাকলে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ছোট ছাপাখানার ফর্মা কেটে ফেলা হলেও ‘রাঘববোয়ালরা’ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সার্বিক
পরিস্থিতি নিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা ও সদস্য (পাঠ্যপুস্তক)
অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের মান রক্ষায় সরকার ও এনসিটিবি কঠোর
অবস্থানে রয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে এবং ফর্মার মান খারাপ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে গত সোমবার গভীর
রাতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম
এহছানুল হক মিলন রাজধানীর
ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান
যাচাই করেছেন।