ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইনানীতে গভীর নলকূপের গর্ত থেকে দুই দিন ধরে জ্বলছে আগুন এল নিনো ও যুদ্ধের প্রভাবে নতুন খাদ্যসংকটের সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাংকের দেশের ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় আজ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: ৬৮ জনের মৃত্যু, ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সৌদিতে মাঝআকাশে উড়িয়ে দেওয়া হলো হুথিদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র রোববার, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা জাপান সফরের তৃতীয় দিনে একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জাদুঘর ঘুরে দেখলেন জুবাইদা রহমান ইসরায়েলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ইসরায়েল নির্বাচনে আরবদের চমক: কারচুপির অভিযোগে সরব লিকুদ পার্টি

কিশোরগঞ্জের এক গ্রামে মাদক ও দারিদ্র্যের জাঁতাকলে পাঁচ শিশু ‘বিক্রি’


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:১৫ পিএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে চরম দারিদ্র্য ও সর্বগ্রাসী মাদকাসক্তির প্রভাবে শিশু কেনাবেচার এক লোমহর্ষক ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে গত ছয় বছরের ব্যবধানে অন্তত পাঁচটি শিশুকে তাদের নিজ জন্মদাতা বাবা-মায়ের মাধ্যমেই হাতবদলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি চাঞ্চল্যকর ঘটনাই ঘটেছে বিগত দুই বছরের মধ্যে, যা স্থানীয় সমাজব্যবস্থা ও মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদকের ভয়ংকর বিস্তার ঘটেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নত অবস্থা এবং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কিছু মাদকাসক্ত বাবা-মায়েরা তাদের কোলের সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অভিযুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকেরই একাধিক সন্তান রয়েছে। যদিও কেউ কেউ দাবি করছেন সন্তানদের দত্তক বা পালক দেওয়া হয়েছে, তবে এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি প্রমাণ কিংবা শিশুদের প্রকৃত হদিস পরিবারগুলো দিতে পারেনি।


সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর চরপুক্ষিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফারজানা বেগম একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে গত ৬ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তাঁর স্বামী অটোরিকশাচালক জাকির মিয়া। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী ও স্বজনরা মিলে তাঁর অগোচরে এই কাজ করেছেন। জাকিরের দাবি, এর আগে তাঁদের আরও দুটি সন্তানকেও একইভাবে হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিন সন্তানের কাউকেই নিজের কাছে পাননি তিনি। যদিও স্ত্রী ফারজানা দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী মাদকাসক্ত এবং তিনিই সন্তান হাতবদল করেছেন। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে জাকির মিয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।


গ্রামের অন্যান্য পরিবারেও একই ধরনের মর্মান্তিক চিত্র রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বল জাকির’ নামে পরিচিত অপর এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম দুই বছর আগে তাঁদের তৃতীয় সন্তানকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। মাদকাসক্তির কারণেই এই দম্পতি সন্তানকে হাতবদল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাদ্দাম হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি মাদকাসক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, সাদ্দাম ও তাঁর তৃতীয় স্ত্রী সোহেনা বেগম প্রায় ছয় মাস আগে তাঁদের নবজাতক ছেলে আলহাতকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এর বাইরে আসাদ ফকির ও তাঁর স্ত্রী সোমা আক্তারও প্রায় দশ মাস আগে তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানকে এক প্রবাসী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বাবা-মায়েরা দাবি করছেন যে, তারা সন্তান বিক্রি করেননি, বরং আত্মীয় বা পরিচিতদের কাছে ‘দত্তক’ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কুতুব বিষয়টি দত্তক হিসেবে দাবি করলেও শিশু হাতবদলের কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি দলিলের হদিস মেলেনি।


এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ জানিয়েছেন, শিশু বিক্রির চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিভাবকরা যদি সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন, তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর