ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬,  ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ অর্থাভাবে বন্ধ চিকিৎসা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণ হাফেজ সোহানুর ঢাকার যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা: কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জুনের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ঘালিবাফ প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেপালে বাংলাদেশিদের মানবপাচার সিন্ডিকেট: বিপাকে দেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:২২ পিএম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নেওয়া এক রাজনীতিককে কেন্দ্র করে মানবপাচারের এক ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আকতার হোসনার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডুতে বসে একটি বিশাল মানবপাচার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বা চাকরির প্রলোভন দিয়ে দেশটিতে নিয়ে জিম্মি করা এবং অনৈতিক কার্যক্রমে বাধ্য করার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে।


নেপালে পালিয়ে গিয়ে ফাহিমা আকতার হোসনা কেবল আত্মগোপনই করেননি, বরং সেখানে একটি সুসংগঠিত মানবপাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নারীদের বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নামানো এবং ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল কাজ। এমনকি ব্ল্যাকমেইলের শিকার করে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, কাঠমান্ডুর থামেল এলাকার মুসলিম গলিতে অবস্থিত 'ঢাকা এক্সপ্রেস' নামক একটি হোটেলের মালিককে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে সেটি জবরদস্তিমূলকভাবে দখল করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ফাহিমার বিরুদ্ধে। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপাল পুলিশ ফাহিমাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনে। তবে রহস্যজনকভাবে আটকের মাত্র দুই সপ্তাহ পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি শ্রীলঙ্কায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।


বিদেশি গণমাধ্যম স্টার নিউজকে দেওয়া তথ্যে কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জানান, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। আগে প্রচুর তরুণী নেপালে যাতায়াত করত এবং গাজীপুরের হোসনা মূলত এই চক্রের অন্যতম শীর্ষ নিয়ন্ত্রক বা ‘সর্দানি’ হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন। এই চক্রের মাধ্যমে অনেক নারীকে যেমন জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হতো, তেমনি অনেককে নেপাল হয়ে চীনসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো। বর্তমানে কাঠমান্ডুতে এ ধরনের অন্তত ৩ থেকে ৪টি সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র কাজ করছে, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের সেফ হাউজে আটকে রেখে জিম্মি করে।


এই ভয়াবহ মানবপাচার ও অপরাধমূলক তৎপরতা সম্পর্কে নেপালে বাংলাদেশী দূতাবাসের ফার্স্ট কনস্যুলার শোয়েব আব্দুল্লাহ জানান, দালাল চক্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানাভাবে শোষণ ও প্রতারণা শুরু করেছে। অনেক সময় প্রবাসীর সংখ্যা বাড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রসেসিং ও ভিএফএস দেখানোর নাম করে শত শত পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায় এই চক্রগুলো। পরবর্তীতে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও ঘটে, যা ইতিপূর্বে সিরিয়া ও লিবিয়াতেও দেখা গেছে। নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকা রাম ধাকাল স্টার নিউজকে জানান, গত তিন মাসে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ৩টি বড় চক্রকে আটক করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে চীনা নাগরিকদের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশিকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় ভয়ে অভিযোগ করতে এগিয়ে আসেন না এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আটকে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দূতাবাসকে অবহিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।


মানবপাচারকারী চক্রের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্পষ্ট জানিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান জানান, প্রায় ৫ থেকে ৭টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখান থেকে মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ এবং যাতায়াত ব্যয় কম হওয়ার কারণে নেপাল বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি গন্তব্য। তবে মানবপাচার ও অপরাধের এই লাগামহীন দৌরাত্ম্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর