ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে জামায়াত এজেন্টরা: ফয়সল আমীন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই মিলল সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার পরিচয় জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ মির্জাপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা একাধিক ট্রেন বঙ্গোপসাগরে জাপানের ‘বিগ-বি’ ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ, নিহত ৫ কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, কাঠগড়ায় ড্যাব

নষ্ট হচ্ছে সাড়ে ৩৫ হাজার গাড়ি

মামলার আলামত সংরক্ষণের বেহাল দশা: নেই কোনো অনুমোদিত ডাম্পিং ইয়ার্ড


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১০ পিএম

মামলার তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা হাজার হাজার যানবাহন বছরের পর বছর রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ডাম্পিং স্টেশনে পচে নষ্ট হচ্ছে। ঝকঝকে এই বাহনগুলোতে এখন কেবলই জং ধরেছে, কাচ ভেঙেছে কিংবা মূল্যবান যন্ত্রাংশ গায়েব হয়ে গেছে। এগুলোকে কেবল ভাঙাড়ি বা সাধারণ কোনো লোহার স্তূপ মনে হলেও এর প্রতিটিই একেকটি মামলার অমূল্য আলামত। আর একটি আলামতের ধ্বংস মানেই কোনো মানুষের তিল তিল করে গড়া সঞ্চয়, পরিবারের জীবিকা কিংবা রাষ্ট্রের কোটি টাকার সম্পদের অপচয়। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং আইনি জটিলতার কারণে এই বিপুল সম্পদের করুণ দশা তৈরি হয়েছে, যার দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।


উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পুলিশের এক অনুসন্ধানে দেশের মামলার আলামত সংরক্ষণের এই বেহাল ও驚কর চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে জব্দকৃত যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার গাড়ি এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে ডাম্পিং জোনে পড়ে রয়েছে। শুধু যানবাহন নয়, অন্যান্য মূল্যবান আলামতের ক্ষেত্রেও চিত্রটি আরও ভয়াবহ; যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মালখানায় এক দশক ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ আলামত ব্যবস্থাপনায় সরকারিভাবে অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট ডাম্পিং ইয়ার্ড বা আধুনিক সংরক্ষণাগার নেই। এছাড়া দেশের ৯৬৭টি থানার মালখানার মধ্যে অন্তত ১২২টিই ব্যবহারের পুরোপুরি অনুপযোগী বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।


এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় যানবাহনগুলো দিনের পর দিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এগুলো যেমন কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতার কাজে আসছে না, তেমনি সরকারও কোনো সুফল পাচ্ছে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, থানার সামনে বাস, মোটরসাইকেল বা টেম্পুর মতো বাহনগুলো বছরের পর বছর ফেলে না রেখে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। বর্তমান সাক্ষ্য আইন ও এভিডেন্স সেক্টরের বিধান অনুযায়ী ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষণ করে তা আদালতের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা আলামত নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।


অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানান, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে জব্দকৃত আলামত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সংরক্ষণ করতে হয় এবং আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা ডিসপোজাল ছাড়া পুলিশ নিজ দায়িত্বে এগুলো অপসারণ বা নিষ্পত্তি করার সুযোগ পায় না। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা এবং সঠিক সময়ে আদালতের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট থানায় না পৌঁছানোর কারণে মূলত আলামতের এই বিশাল পাহাড় তৈরি হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কেবল দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ও আধুনিক ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ, আলামতের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা বা ডাটাবেজ তৈরি, নিয়মিত অডিট এবং আদালত ও পুলিশের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ ও সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত বাহনগুলো এভাবেই অবহেলায় ধুঁকতে থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর