নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির একক ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্তদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। দেশের ক্রীড়া খাতের সার্বিক উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে এ সময় খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। এই ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য কেবল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা নয়, বরং সরাসরি পদকের জন্য লড়াই করা। যেসব ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ ক্রীড়া আসরে কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ না থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পদক জয়ের উপযোগী অ্যাথলেট তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নত করতে সরকার ৫০০ জন কৃতি খেলোয়াড়কে ‘ক্রীড়া কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত ভাতার পাশাপাশি যাতায়াত, জীবন বীমা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এই সুবিধার আওতায় ভাতা পাচ্ছেন। খেলাধুলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করছে মন্ত্রণালয়। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বর্তমান তালিকা থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা ৩১ জন ক্রীড়াবিদকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি চার মাস পর পর ক্রীড়াবিদদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। মন্ত্রণালয় এই তদন্ত কাজে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।