ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে জামায়াত এজেন্টরা: ফয়সল আমীন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই মিলল সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার পরিচয় জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ মির্জাপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা একাধিক ট্রেন বঙ্গোপসাগরে জাপানের ‘বিগ-বি’ ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ, নিহত ৫ কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, কাঠগড়ায় ড্যাব

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক: দুর্গাপুরে হাতেনাতে আটক যুবক


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:২৫ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে মো. বিপ্লব (২৩) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরের দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ঝালুকা ইউনিয়নের গরিহার গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত মো. বিপ্লব দুর্গাপুরের ঝালুকা ইউনিয়নের সাইবার গ্রামের বাসিন্দা মো. এরাজ উদ্দিনের পুত্র। অপরদিকে, ভুক্তভোগী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন (৩২) একই ইউনিয়নের গরিহার গ্রামের মরহুম নুর আলীর কন্যা। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের উভয়ের মধ্যে একটি গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে জানা গেছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার ভোরে আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রেমিক বিপ্লব গোপনে সুফিয়া খাতুনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিষয়টি সুফিয়ার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। টের পেয়ে অভিযুক্ত বিপ্লব দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন ও আশপাশের প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। এরপর উপস্থিত স্থানীয়রা বিপ্লবকে ভুক্তভোগী সুফিয়াকে অবিলম্বে সম্মানজনকভাবে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কোনো উপায়ান্তর না দেখে সুফিয়ার পরিবার দ্রুত দুর্গাপুর থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং অভিযুক্ত যুবকসহ ভুক্তভোগীকে থানায় নিয়ে আসে।


থানায় উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী সুফিয়া খাতুন পুলিশকে জানান যে, দীর্ঘ আট বছরের এই প্রেমের সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তাঁকে কোনো ধরনের তথ্য না জানিয়েই অভিযুক্ত বিপ্লব গোপনে অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু পূর্বের বিয়ের তথ্যটি সম্পূর্ণ গোপন রেখে বিপ্লব সুফিয়াকে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিতভাবে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। পরবর্তীতে যখন সুফিয়া তাঁকে সামাজিক স্বীকৃতি ও বিয়ের জন্য চূড়ান্ত চাপ দিতে শুরু করেন, তখন থেকেই বিপ্লব নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ ও টালবাহানা শুরু করেন।


এই পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার গণমাধ্যমকে জানান যে, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত আসামিকে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক ও প্রতারণামূলক অপরাধের বিষয়ে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর