আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত বিদায়লগ্নে এসে এক গভীর আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী বার্তা দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেষ অনুশীলন সেশনের কিছু বিশেষ মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতিকাতর বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি। রোজারিওর এই ফুটবল জাদুকরের আবেগমাখা বার্তাটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মনে এক অচেনা বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে, কারণ তাঁরা এমন এক অনন্য যুগের সমাপ্তি দেখতে চলেছেন যা আর কখনো ফিরে আসবে না।
নিজের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এজায়েজা অনুশীলন কমপ্লেক্সে জাতীয় দলের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে এটিই ছিল মেসির জীবনের শেষ অনুশীলন সেশন। কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম ঝরানোর সেই চেনা আঙিনায় সেশন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং এএফএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে শেষ রাতের খাবার সারেন তিনি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আবেগঘন ছবি শেয়ার করেন মেসি। ছবিগুলোর মধ্যে সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর হাসিমুখের খুনসুটির মুহূর্ত যেমন রয়েছে, তেমনি একটি বিশেষ গ্রুপ ছবি সবার নজর কেড়েছে। সেই ঐতিহাসিক ছবিতে স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, মাঠের গ্রাউন্ডসম্যান, এএফএর অন্যান্য কর্মচারী এবং সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়াকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা গেছে, যা এক পূর্ণাঙ্গ ও আবেগপূর্ণ পরিবারের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে মেসি সেখানে লিখেছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত যা আমি জানি যে আমি মিস করব।’
আগামীকাল বুধবার ভোরে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন বিদায়ী ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। মেসির এই শেষ ম্যাচটিকে ঘিরে পুরো স্টেডিয়াম ও ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে এক অভাবনীয় উন্মাদনা। এই বিশেষ লগ্নকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং প্রিয় অধিনায়কের পাশে থাকতে দলে বিশেষ অতিথি ও সতীর্থ হিসেবে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি, বিশ্বস্ত মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল এবং জিওভানি লো সেলসোর মতো তারকারাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁরা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না বা কতটুকু সময় খেলার সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে জল্পনা চললেও, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হলে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে লড়াই করবেন মেসি। তাঁর এই মহিমান্বিত বিদায়ের মধ্য দিয়ে আলবিসেলেস্তে ফুটবলের এক অভূতপূর্ব ও সোনালী অধ্যায়ের পর্দা নামতে চলেছে।