ফ্রান্সে
চলমান তীব্র শিক্ষার্থী আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে
ব্যবহার করে এর দায় ইসলাম
ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর
প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলনের
সঙ্গে ধর্ম বা অভিবাসনের ন্যূনতম
কোনো বাস্তব সংযোগ নেই।
সম্প্রতি
ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুলগুলোর বেহাল দশা, তীব্র কর্মীসংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপে জর্জরিত শ্রেণিকক্ষগুলোর সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন শুরু করে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই ছাত্র বিক্ষোভ
মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও কিছু স্থানে অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে মর্মান্তিক এসব ঘটনায় একজন স্কুলছাত্র তার একটি হাত চিরতরে হারিয়েছেন এবং অপর একজন শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। আন্দোলনের সময় পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত কড়াকড়ি নিয়ে ফরাসি সমাজেও তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড়
উঠেছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অবশ্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
কিন্তু
ফ্রান্সের এই অভ্যন্তরীণ ছাত্র
আন্দোলনকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য
প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন যে, ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটে চলেছে
তা লাগামহীন ও ব্যাপক অভিবাসনের
স্পষ্ট পরিণতি। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে এই বিক্ষোভ
কেবল স্কুল বা শিক্ষা ব্যবস্থার
বিষয় নয়, বরং ইসলাম একসময়ের অত্যন্ত মহান একটি দেশকে গ্রাস বা দখল করে
নিতে চাইছে। অথচ ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে
বাস্তবতার কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যায়নি, কারণ বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত দাবিনামার কোথাও অভিবাসন বা ধর্মীয় কোনো
ইস্যুর বিন্দুমাত্র উল্লেখ ছিল না।
আন্তর্জাতিক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্য মূলত আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ধরনের রাজনৈতিক
কৌশল। আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে সামনে
রেখে মার্কিন রক্ষণশীল ভোটারদের প্রভাবিত করতে এবং নিজেদের কট্টর অভিবাসনবিরোধী ও আগ্রাসী বহিষ্কার
নীতির পক্ষে শক্তিশালী জনমত তৈরি করতেই ট্রাম্প এই ধরনের অতিরঞ্জিত
ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। ইউরোপের একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ছাত্র আন্দোলনকে বিকৃত করে নিজ দেশের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা হিসেবেই তার এই বক্তব্যকে দেখছেন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।