ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬,  ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীপুরে বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজারকে গুলি করে আড়াই কোটি টাকা ছিনতাই জলপরী কি সত্যিই আছে? হাজার বছরের পুরোনো মৎস্যকন্যার মিথের আসল ইতিহাস দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিং কি পুরুষদের শুক্রাণুর মান কমিয়ে দেয়? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য: এলজিআরডি মন্ত্রী কে এই নাভি পিল্লে: বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেক নোবেল জয় জুনিয়র এনটিআর ও পুলিশ কমিশনারের এআই ছবি নিয়ে তীব্র বিতর্ক প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী! জুমার পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিটে’র ১৭ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন ও তেলের দামে বাড়ল স্বর্ণের দাম

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলোর দ্বিমুখী কৌশল


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৩ এএম

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো। ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই পরিচালনার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত শীর্ষ ছয়টি ঋণখেলাপি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইফুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত খেলাপি ঋণের আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪০টি ঋণখেলাপি গোষ্ঠীকে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জড়িত।


ব্যাংকগুলো পৃথকভাবে মামলা না করে কনসোর্টিয়াম বা সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক লড়াই পরিচালনা করছে। প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য প্রধান ব্যাংক নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠান ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘উদ্ধার না হলে পারিশ্রমিক নয়’ শর্তে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। দেওয়ানি কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে স্থানান্তরিত গোপন সম্পদ শনাক্ত করা এবং আদালতের আদেশের মাধ্যমে তা জব্দ বা পুনরুদ্ধার করা।


এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গঠিত আন্তঃসংস্থা সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে ফৌজদারি তদন্ত কার্যক্রম সমান তালে এগিয়ে চলছে। অপরাধীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা সম্পদ স্থানান্তর রোধে ইতোমধ্যে ১৫৮ জনের ওপর বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য ১০টি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যাংকগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর