কক্সবাজার থেকে ফিরে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তার শেষ মুহূর্তের চলাচলের দৃশ্য ধরা পড়লেও এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেল এলাকায় আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাস থেকে নেমে সে হোটেলের পাশের খাবার দোকান ও কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায়। এ সময় এক দোকানির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে কথা বলতে এবং কিছু একটা দেখতে বা দিকনির্দেশনা নিতে দেখা যায়। এরপর রাত সোয়া ১২টার দিকে সে ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। তবে এর পর থেকে তার সঠিক গন্তব্য বা চলাচলের পথ আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।
ঘটনার পরদিন ৮ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধানগাছগুলো এলোমেলো হয়ে থাকায় স্থানীয়দের জোরালো ধারণা, ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ পালানোর চেষ্টা করেছিল ওই কিশোরী। তার মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং ঘটনাস্থলের অদূরে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পড়েছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে কুমিল্লার রেসকোর্সের বাসা থেকে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন। ঘটনার রাতে সে তার বাবাকে একাধিকবার ফোন করলেও বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তা রিসিভ করতে পারেননি। পরবর্তীতে রাত পৌনে দুইটার দিকে সে বাবাকে একটি মেসেজ ও ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করার আকুতি জানিয়েছিল। সকালে ঘুম থেকে জেগে সেই বার্তা দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার বাবা আবদুল আলীম, যেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে লালমাই থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।