সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো এক আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক হামলায় দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থার (সৌদিয়া) একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকা থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে সৌদিয়ার ওই বিমানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং একাধিক বিমানসংস্থা তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাঁদের বাহিনী দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিং খালিদ বিমানবন্দরে এই হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে নাজরান বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত বিমান ঘাঁটিতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে হুথিদের এই দাবি অস্বীকার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আভা ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হওয়া হামলায় তিনজন বিদেশি নাগরিক নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছিলেন।
এই ভয়াবহ হামলার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এয়ার ইন্ডিয়া আগামী শনিবার পর্যন্ত রিয়াদগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং লুফথানসা গ্রুপও সৌদি রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া সতর্কতা জারি করেছে এবং মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ অনুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে।
২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত জুলাইয়ে ইয়েমেন যুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে তীব্র স্থল লড়াইয়ের ফলে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে ইয়েমেনে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের জন্য তারা ১ হাজার ৮০০টি আবেদন পেয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের চরম মানবিক বিপর্যয়কেই তুলে ধরে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইউকে