ইরানের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চাপ আরও তীব্র করতে দেশটির কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত ১৭টি জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে এই জাহাজগুলোর পরিচালনা ও পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা এই জাহাজগুলো ইরানের লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে পরিবহন করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ থেকে রেহাই পাবে না।
নিষেধাজ্ঞার আওতুক্ত উল্লেখযোগ্য জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ভানুয়াতুর পতাকাবাহী ‘টিনা ৫’, যা গত আগস্টে ইরানের ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে। এ ছাড়া কমোরোসের পতাকাবাহী ‘সগল’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি প্রোপেন ও বিউটেন এবং ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘শেনজেন’ ৩৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া এই অভিযানের আওতায় জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহন ও প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তা করা যেকোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে পৃথক এক সিদ্ধান্তে ‘হাকুনা মাতাতা’ ও ‘পিনোচিও’ নামের দুটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ দুটি শ্যাডো ফ্লিটের কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসায় এবং নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত নতুন পরিচালকদের কাছে বিক্রি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি