আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে দিল্লি অবরুদ্ধ করে বিপুল ধরপাকড়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার রাজপথে মহা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক মোর্চা ‘ইন্ডিয়া’ জোট। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাধারণ মানুষের পবিত্র ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী নয়াদিল্লিতে মহাসমাবেশ ও বৃহৎ বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে এই জোট।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) ভারতের কেরালা রাজ্যের আলপ্পুঝায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী জোটের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল।
সংবাদ সম্মেলনে কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হচ্ছে। সংবিধানে স্বীকৃত ভোটাধিকার রক্ষায় বিরোধীদের চলমান আইনি ও রাজপথের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিনিধি দল প্রতিনিধি পাঠিয়েছে জোট। পাশাপাশি আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা জানাতে সাক্ষাৎ সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বেআইনিভাবে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে কংগ্রেসের এই শীর্ষনেতা সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দিকে তোপ দাগেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এভাবে অনুচিতভাবে আড়াল করার স্বৈরাচারী প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের পতন ডেকে আনবে। প্রধানমন্ত্রীর আচরণে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে বিরোধী দল ও তরুণদের আন্দোলন দেখে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত।
শনিবার দিল্লিতে জেন-জি আন্দোলন স্তব্ধ করতে কেন্দ্র সরকারের নজিরবিহীন অবরুদ্ধ নীতির তথ্য তুলে ধরে বেণুগোপাল বলেন, আন্দোলন ঠেকাতে মোদি সরকার দিল্লিতে প্রকৃতপক্ষে অঘোষিত 'লকডাউন' জারি করেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন যোগাযোগ এবং মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী। তবে কোনো প্রকার বাধাই জনগণের আন্দোলন থামাতে পারবে না এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ফেরানো পর্যন্ত লড়াই জোরদার থাকবে বলে তিনি সাফ জানান।