মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এ জঘন্য ঘটনার বিচারের দাবিতে গ্রামবাসীর ঝাড়ু মিছিল শেষে অভিযুক্তের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুরের পর বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে একই গ্রামের বাসিন্দা হাবুল শিকদার (৫৭) চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করে মেয়েটির পরিবার। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত হাবুল শিকদার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া এবং থানায় কোনো আইনি মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছিল একটি প্রভাবশালী মহল।
ধর্ষণচেষ্টার বিচার না হওয়া এবং মামলা না করার জন্য চাপের মুখে পড়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় নারী-পুরুষ। সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত হাবুল শিকদারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় এক বিশাল ঝাড়ু মিছিল বের করেন গ্রামবাসী। মিছিলটি সাহেবরামপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হঠাৎ উত্তেজিত জনতা কালকিনি থানার মধ্যেরচর গ্রামে অভিযুক্ত হাবুল শিকদারের ফাঁকা বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। অন্যদিকে হাবুল শিকদারের বসতঘর ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।