আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘোষিত ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করতে না পেরে আবারও চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই-কে এক ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁকে (ট্রাম্পকে) এই পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নোবেল কমিটির দেশ নরওয়ের জন্য এক ‘মুচে ফেলা যায় না এমন চিরস্থায়ী কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের সিরাকিউজে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প তাঁর এই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সমাবেশ ও নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তাঁর চলতি মেয়াদে বিশ্বজুড়ে ৮টি যুদ্ধের ঐতিহাসিক নিরসন করেছেন, আরও ২টি সংঘাত অবসানের দ্বারপ্রান্তে এনেছেন, ইসরায়েলের সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন, ভেনিজুয়েলার স্বৈরশাসককে বন্দি করেছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছেন। এসব অভূতপূর্ব অর্জনের পর তাঁকে বা যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নোবেল দেওয়া নরওয়েজীয় কমিটির চরম ‘কলঙ্কজনক ও বিব্রতকর’ সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে নরওয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কার দেননি, তা আমরা কখনো ভুলব না।”
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নোবেল কমিটি কোনো সরকারের অধীনে নয় এবং স্বাধীনভাবে আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসরণ করেই বিচারকার্য পরিচালনা করে। বিশ্বের আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অসামান্য অবদানের জন্য ৮১ বছর বয়সী প্রখ্যাত আইনজীবী নাভি পিল্লাইকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। যিনি ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বদান, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী লড়াই এবং সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বজুড়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে নরওয়েতে নোবেল জয়ের খবর পেয়ে নাভি পিল্লাই ট্রাম্পের তোপ সামলে রসিকতা করে বলেন, “আপনারা বেশি করতালি দিলে হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে!” এই সম্মাননাটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন তিনি।