আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 23
জনসেবামূলক রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন ঘটিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ দখল করে অবৈধভাবে সংসার পেতেছেন কার্যালয়টির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে বাড়িভাড়া ভাতা উত্তোলন করা সত্ত্বেও পৌরসভার কক্ষ বিনামূল্যে আবাসিক কাজে ব্যবহার করায় স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ এবং চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তা ত্রয় হলেন—পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ আকন্দ, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পনির হোসেন মোল্লা এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই গফরগাঁও পৌরসভায় নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন আরিফ আকন্দ। যোগদানের পর থেকেই তিনি পৌর ভবন ভবনের ৩য় তলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ স্থায়ীভাবে দখল করে বসবাস শুরু করেন। একইভাবে ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিলে যোগদান করা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পনির হোসেন মোল্লা পাশের আরেকটি দাপ্তরিক কক্ষ নিজের শোবার ঘর হিসেবে গড়ে তোলেন। পরবর্তীকালে বিগত কোরবানির ঈদের পর থেকে তাদের দেখাদেখি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনও পৌরসভার আরেকটি কক্ষ দখল করে ব্যক্তিগত আবাসন বানিয়ে বসবাস করছেন।
সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এমন নিয়মবহির্ভূতভাবে বেআইনি বাসস্থান গড়ে তোলার কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তদুপরি, আবাসিক কাজে ব্যবহৃত অফিসের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ, এসি, পানিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের দরুন সরকারি রাজস্ব তহবিলের অনিয়মিত অপচয় ঘটছে প্রতিদিন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশেই তিনি কোরবানির ঈদের পর থেকে ভবনের একটি কক্ষে উঠেছেন। অন্যদিকে কোনো আইনের বিধিতে ফ্রিতে সরকারি কক্ষে থাকেন—এমন প্রশ্নে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পনির হোসেন মোল্লা দায়সারা জবাব দিয়ে বলেন, “আপাতত ফ্রিতেই থাকছি, কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিতে বললে চলে যাব।”
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আকন্দ। পলাতক পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কক্ষে থাকার দাবি করলেও পরবর্তীতে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে কক্ষ দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাসাভাড়ার টাকা সরকারি ফান্ডে ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।