ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের জোট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকে অনুষ্ঠিত মহা বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান ও দমনপীড়ন শুরু করেছে ক্ষমতাসীন মোদি সরকার। এ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও 'হার্ড নিউজ'-এর সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় কাপুর বলেন, জেন-জি ও সিজেপির এই গণআন্দোলন ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকবে—সে বিষয়ে অজানা আতঙ্কে ভুগছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সরকার এতটাই ভীত-সন্ত্রস্ত যে সাধারণ আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে পুরো দিল্লির রেল পরিষেবা ও বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তরুণরা যাতে কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে দিয়ে গণপরিবহন ও যাতায়াতের সব মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক এই বিশ্লেষক আরও জোর দিয়ে বলেন, মোদি সরকার ইতোমধ্যে জনগণের কাছে নিজের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে শুরু করেছে। রাজপথে নেমে আসা বিক্ষোভকারীদের একক দাবি—তারা আর বিজেপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। রাজনৈতিক হাওয়া যে তাদের পক্ষে নেই এবং আগামীতে ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তা বুঝতে পেরেই দিল্লিজুড়ে অঘোষিত অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে মোদি সরকারের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যন্তর মন্তর এবং এর আশপাশের এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই এলাকায় যাওয়া মাত্রই অসংখ্য আন্দোলনকারীকে গণহারে গ্রেপ্তার ও আটক করে অস্থায়ী কারাগারে রূপ দেওয়া স্টেডিয়ামগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এমন কঠোর দমনপীড়নের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির হাইকম্যান্ড থেকে সারা দেশের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজপথের যেখানেই যাদের বাধা বা আটক করবে, আন্দোলনকারীরা যেন ঠিক সেই স্থানটিকেই তাৎক্ষণিকভাবে 'যন্তর মন্তর'-এ পরিণত করে রাজপথেই তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।