সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এলাকায় পরপর দুই দিন হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত ও শিল্পনগরী দাম্মামের কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। গত রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পরপরই সংঘটিত এই আকস্মিক আক্রমণের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন-গাকা)। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার তীব্র প্রতিশোধ হিসেবে এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে হুথি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত শনি ও রোববার ধারাবাহিকভাবে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। রবিবারের সেই হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঠিক একই দিনে রিয়াদের পাশাপাশি দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও তেলসমৃদ্ধ শহর দাম্মামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায় হুথিরা। তবে কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সংঘটিত এই হামলার ফলে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো বা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে গাকা কিংবা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
এদিকে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা অফিশিয়ালি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। দাম্মাম এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হুথি গোষ্ঠীর শীর্ষ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী হুমকি দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে আরও তীব্র ও কঠোর আক্রমণ চালানো হবে। বিমান সংস্থা, এয়ারপোর্টের গ্রাউন্ড কর্মী এবং সাধারণ যাত্রীদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হুথি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, গত শনিবার থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২৪ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। তারই সরাসরি জবাব হিসেবে রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দরে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
প্রসঙ্গত, রিয়াদ থেকে প্রায় ৪১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দাম্মাম শহরটি সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রধান কেন্দ্র এবং আরব উপসাগরীয় উপকূলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক জনপদ। এই অঞ্চলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে কিং ফাহাদ বিমানবন্দরটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষা করে আসলেও সাম্প্রতিক এই নিরাপত্তা সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।