ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এ ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ পিটিশনে মামলাকারী বা আবেদনকারী হিসেবে ভারতের প্রধান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র আরও সাতজন হেভিওয়েট শীর্ষ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি সোমবার এই ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিরোধী শিবির।
একই ইস্যুতে সোমবার রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসের কাছ থেকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে এগোতে থাকলে ভগবান দাস মার্গ-এর কাছে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাদের বাধা দিয়ে আটকে দেয়। তবে মিছিল বাধাগ্রস্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধীর আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে পিটিশন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত নানা গাফিলতির অভিযোগ এবং সেই সঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে পৃথক একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই এবার কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের মূল নেতৃত্বই স্বনামে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে এই শক্তিশালী পিটিশন দাখিল করলেন।
আদালতে দাখিল করা এই যৌথ পিটিশনে মামলাকারী হিসেবে স্থান পাওয়া অন্য সাতজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হলেন—কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রভাবশালী নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, শিবসেনার (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই (এম)-এর কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বেবি এবং সিপিআই-এর শীর্ষ নেতা ডি রাজা।
এর আগে গত সপ্তাহে এই একই সংকটময় রাজনৈতিক ইস্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিরা। এরপর সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গেও এক জরুরি সাক্ষাতের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন জোটের নেতারা। যদিও পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততা ও আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগত কারণে সেই সাক্ষাতের সরাসরি অনুমতি দেননি প্রধান বিচারপতি। তবে সকালে আদালত চলাকালীন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে রাজনীতিকদের প্রশাসনিক আলোচনার বদলে আইনের সঠিক পথ ধরে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত; কারণ ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের দরজা দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের আইনি সুরক্ষার জন্যই সর্বদা উন্মুক্ত। শীর্ষ আদালতের সেই স্পষ্ট নির্দেশনার পরেই বিরোধী নেতারা কালবিলম্ব না করে তড়িঘড়ি এই পিটিশন দাখিল করেন বলে ধারণা করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের এই নজিরবিহীন আইনি ও রাজপথের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানিয়েছে দেশটির শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি নেতা ও সংসদ সদস্য অনুরাগ ঠাকুর এ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দল মূলত নিরপেক্ষ বিচার বিভাগকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক লাভ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে বলে বিজেপি অভিযোগ তুলে ধরেছে।