ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের টানা বিক্ষোভ ও আন্দোলন সামাল দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন উৎসবের মৌসুমকে যৌথভাবে গুরুত্ব দিয়ে দিল্লিতে প্রায় ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে টানা এক মাস মোতায়েন রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেবল রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়, বরং সামনে থাকা উৎসবের মৌসুমকে মাথায় রেখেই এত বিপুল পরিমাণ প্যারামিলিটারি সদস্যকে দীর্ঘ সময় দিল্লিতে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কারণ এই সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিপণীবিতান, বাজার এবং জনবহুল স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানীতে চলমান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য নতুন করে তিনটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। স্থানগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি ময়দান। এতদিন শহরের অতি-নিরাপত্তাবেষ্টিত কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'যন্তর মন্তর'-কে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলেও নতুন তালিকায় সেটিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরই অংশ হিসেবে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আবেদন জমা দিতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভের জেরে রাজধানীতে অননুমোদিত জমায়েত রোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লির সমস্ত সীমান্ত এলাকা, রেলওয়ে স্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালসহ স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হোটেল, গেস্ট হাউস, লজ ও ধর্মশালাগুলোতে নিয়মিত পরিচয় যাচাইকরণ বা আইডি চেক অভিযান কঠোর করা হয়েছে।
আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার সুবিধার্থে পুরো নয়াদিল্লি জেলাকে সুনির্দিষ্ট ২০টি পৃথক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার (ডিসি) ও অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, এবারের বিক্ষোভে জনসাধারণের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। এটিকে নিছক রাজনৈতিক কর্মসূচি না বানিয়ে একটি ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে এক বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে।