ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,  ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ক্লড এআইকে গালি বা অপমান করলে বন্ধ হতে পারে অ্যাকাউন্ট


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৪৪ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর সঙ্গে বারবার খারাপ, অশালীন বা অপমানজনক আচরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’। গত ৮ অক্টোবর নিজেদের ব্যবহারের নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে মার্কিন এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।


অ্যানথ্রপিক সূত্রে জানানো হয়েছে, চরম কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কিংবা কোনো ব্যবহারকারী ক্রমাগত ক্লডের সঙ্গে অপমানজনক ও অশালীন আচরণ চালিয়ে গেলে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। তবে ব্যবহারকারীর সাধারণ বিরক্তি প্রকাশ, এআইয়ের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ, সৃজনশীল কাজের তাগিদে কোনো বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা কিংবা গবেষণার স্বার্থে এআই পরীক্ষা করার মতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কোনো বাধা তৈরি করবে না। মূলত এটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ব্যবহারের নীতিমালা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে নতুন নিয়মে প্রতারণামূলক রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং সার্বিক নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যাহত করার কাজে ক্লডের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মারণাস্ত্র তৈরির কাজে ক্লডের ব্যবহার শুরু থেকেই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল।


তবে কোন নির্দিষ্ট ধরনের আচরণকে ‘খারাপ’ বা ‘অপমানজনক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই নিয়ম জনসমক্ষে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত মানুষের মধ্যে সাধারণ শিষ্টাচার ও ভালো আচরণ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে অন্য একটি বড় পক্ষ এর কড়া সমালোচনা করেছেন।


আয়ারল্যান্ডের খ্যাতনামা আইন প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম ফ্রাইয়ের প্রযুক্তি বিষয়ক অংশীদার ব্যারি স্ক্যানেল এ প্রসঙ্গে বলেন, গাণিতিক কোড বা সংখ্যার ওপর এভাবে মানবিক আচরণ আরোপ করা অবাস্তব। কারণ কোনো অ্যালগরিদমের প্রতি নিষ্ঠুর হওয়ার সুযোগ নেই। এআইকে মানুষের মতো বিবেচনা করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মানুষ এআইকে বাস্তবে যা নয়, তা ভেবে ভুল করতে শুরু করবে।


অন্যদিকে মাইক্রোসফটের এআই পরিচালক মুস্তাফা সুলেইমানও অ্যানথ্রপিকের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অবিকল মানুষের সমকক্ষ মনে করার মানসিকতার বিরোধিতা করেছিলেন।


পাশাপাশি এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘দয়া করে’ (Please) বা ‘ধন্যবাদ’ (Thank you)-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের সৌজন্যমূলক শব্দ ব্যবহার নিষ্প্রয়োজন, যা মূলত এআইয়ের উত্তর তৈরিতে ব্যবহৃত টোকেন বা প্রসেসিং পাওয়ারের অপচয় ঘটায়। তবে আরেক দলের মতে, বটের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বললে তুলনামূলক নিখুঁত ও উন্নত উত্তর পাওয়া যায়।


গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারী জানতে চান, চ্যাটজিপিটিকে এসব সৌজন্যসূচক কথা বলতে কত বিদ্যুৎ খরচ হয়। জবাবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান রসিকতা করে বলেন, ‘এজন্য যদি ১০ মিলিয়ন ডলারও খরচ হয়ে থাকে, তবে তা সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে; কারণ ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী রূপ নেয় তা কারও জানা নেই।’ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চ্যাটবটের সঙ্গে খারাপ অভ্যাসের প্রতিফলন মানুষের বাস্তব জীবনের যোগাযোগেও পড়তে পারে, যা সামাজিক আচরণের অবনতি ঘটাতে সক্ষম।


এ সম্পর্কিত আরো খবর