যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। রাজধানীজুড়ে দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর চরম ভোগান্তি, হ্যারাসমেন্ট এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন তিনি। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় এই ক্ষোভ উগরে দেন রাজনৈতিক এই তরুণ নেতা।
সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তরুণদের করুণ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ টিউশনির জমানো টাকায়, আবার কেউ ধারদেনা করে শুধুমাত্র মেধার শক্তিতে একটা সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ঢাকায় এসেছিলেন। অথচ পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ঘুরপাক খাচ্ছিল। ১০০টি কেন্দ্রে যখন তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী আসন গ্রহণ করেন, ঠিক তার ৫ মিনিট আগে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা স্বীকার করে পরীক্ষা বাতিলের নাটকীয় ঘোষণা দেওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের স্বপ্ন নিয়ে প্রশাসনিক এই চরম গাফিলতিকে অত্যন্ত নির্মম রসিকতা হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
তরুণ সমাজের এই হতাশার জন্য দায়ীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, বহু বছর পর একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলেও সেখানেও থাবা বসায় শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট। বছরের পর বছর তরুণদের পকেটের টাকা ও চোখের জল নিয়ে যে চক্রটি ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে রুখে দাঁড়াবে। মাত্র ২০০টির কিছু বেশি শূন্যপদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ বেকার যুবকের অংশ নেওয়াকে দেশের ভয়াবহ বেকারত্ব সংকটের জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়েরের জোর দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার আইনে সাজা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে এই নৈরাজ্যের পূর্ণ জবাবদিহি করতে হবে। এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যদি এই অপরাধী চক্রের মূলোৎপাটন করতে ব্যর্থ হন, তবে নৈতিকতার খাতিরে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
আকাশজমিন / আরআর