ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর চুল কেটে দেওয়া হয় এবং সাথে থাকা যুবকটি মারধরের চোটে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সম্প্রতি লোমহর্ষক এই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী রাজিব বেপারী, তাঁর বাবা সোরহাব বেপারী এবং স্থানীয় বাসিন্দা রনি বেপারীর মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক ও সামাজিক সখ্য ছিল। সেই সুবাদে রনি বেপারী প্রায়শই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জিন্নাত বেপারী ও তাঁর পিতা বারেক বেপারীসহ একদল লোক ওই নারী ও পুরুষকে এক স্থানে আটকে রেখে এই অমানবিক নির্যাতন চলায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, পরকীয়া সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ তুলে তাঁদের গরুর রশি দিয়ে পশুর মতো হাত-পা বেঁধে ফেলে বেদম প্রহার করা হয়। একপর্যায়ে গৃহবধূ মুক্তার মাথার চুল বেআইনিভাবে কেটে দেওয়া হয়। এ সময় রনি বেপারী নামের ওই যুবক প্রহারের তীব্রতায় অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান স্থানীয়রা। তবে চিকিৎসাধীন যুবকের বর্তমান শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার প্রাপ্তিমাত্রই তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।