ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ঐতিহাসিক চন্ডিছড়া চা বাগানে চরম দুর্নীতি, চরম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক প্রয়োগের চরম অভাবে বাগানের একের পর এক মূল্যবান চা গাছ শুকিয়ে মরে কঙ্কালসার হয়ে গেলেও সেদিকে কোনো নজর নেই বাগানের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) সেলিমুর রহমানের। চা বাগানের সার্বিক উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তোষামোদ বা 'তেলবাজি' করতেই বেশি পছন্দ করেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
বাগানের ১৩ নম্বর সেকশনসহ বিভিন্ন অঞ্চল সরেজমিনে ঘুরে চরম অব্যবস্থাপনার ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি ম্যানেজার বাংলোর চারপাশের চা গাছগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সঠিক পরিচর্যার অভাব ও পোকামাকড়ের উপদ্রবে পাতা ঝরে গিয়ে গাছগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণে উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়লেও তা তদারকি না করে ভিআইপিদের মন জোগাতে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তিনি ইতিমধ্যেই 'তেলিং ম্যানেজার' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
শুধু পরিচর্যার অভাবই নয়, চন্ডিছড়া চা বাগান থেকে উৎপাদিত কাঁচা চা পাতা চোরাই পথে বাইরে বিক্রি করার জন্য বড় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সেলিমের বিরুদ্ধে। চণ্ডীছড়া চা বাগান ফ্যাক্টরির পাশের একটি চায়ের দোকানে প্রতিদিন চোরাই চা পাতা কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কিছু লোক সক্রিয় থাকে। কোনো প্রকার প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় এই অপরাধী চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ম্যানেজারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
চা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাগানটিতে টি মসিডিফাইড বাগ, রেড স্পাইডার মাইট কিংবা উইপোকার মারাত্মক আক্রমণ ঘটেছে। দ্রুত মাটির অম্লতা পরীক্ষা করে নাইট্রোজেন, পটাশ, ইউরিয়া ও টিএসপি সার প্রয়োগ করা না হলে পুরো বাগান অকেজো হয়ে যাবে। চন্ডিছড়া চা বাগানকে সম্পূর্ণ বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করতে দুর্নীতির তদন্তসহ দায়িত্বহীন ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমানকে অনতিবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চা শ্রমিক ও এলাকাবাসী।