দেশের আলোচিত করপোরেট প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণখেলাপি হওয়া দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও ছাড় দিয়েছে দেশের প্রধান আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে থাকা শাইনপুকুর সিরামিকসের ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমা আগামী বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির অনুকূলে নতুন করে এলসি বা ঋণপত্র খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড ইতিমধ্যে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও সোনালী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমা নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে না। মূলত সার্বিক রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট অপর এক বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে শতভাগ নগদ মার্জিনে শাইনপুকুর সিরামিকসের ঋণপত্র বা এলসি খোলার অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে সোমবার জারীকৃত অপর এক পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির নতুন এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শাইনপুকুর সিরামিকসের মতো এই প্রতিষ্ঠানটিও আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাবে।
তবে এই দুই প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর দুটি প্রধান শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, এই বিশেষ আর্থিক সুবিধার বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক বা আইনি দায় সৃষ্টি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সমস্ত আয় একটি নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট যৌথ হিসাবে জমা রাখতে হবে। পরবর্তীতে সেই হিসাব থেকেই ব্যাংকের পাওনা টাকা আনুপাতিক হারে পরিশোধ করতে হবে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে যেকোনো ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা বা ঋণ সহায়তা দেওয়ার ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরামর্শ ও আলোচনা করেই আইনি এই ধারা থেকে বিশেষ অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক মহলের মতে, কেবল বেক্সিমকো গ্রুপই নয়, বরং এর সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আরও কয়েকটি প্রভাবশালী ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের নমনীয়তা ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।