আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। বিচারকাজ চলাকালে সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এক মন্তব্যের জেরে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কম কথা বলার জন্য সতর্ক করেন।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই বিচারকাজ পরিচালিত হয়।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে এদিন দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন। সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে সাক্ষী একটি প্রসঙ্গের উল্লেখ করলে প্রসিকিউশন তা বাদ দেওয়ার আবেদন জানায়। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে টিপ্পনী কেটে বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’।
এর আগে শুনানির শুরুতেই প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের একটি প্রশ্নের পর পলক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, “এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন।” এ সময় অনুমতি ছাড়া পলকের কথা বলার তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রসিকিউটর তামিম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাইব্যুনাল পলকের উদ্দেশে বলেন, “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে।” পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ইন্টারনেট বন্ধ রেখে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং হত্যায় সহায়তা করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় এবং পলক কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকায় বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।