ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,  ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে সরকারকে নোটিশ


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:১৮ পিএম

দেশে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক দাম কমিয়ে প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে রিট করার কথাও জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।


রোববার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।


নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাশাপাশি নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্যও গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


আইনি নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ তুলে ধরে বলা হয়েছে, যেসব দেশে কোনো পণ্য তুলনামূলক কম ব্যয়ে উৎপাদন করা সম্ভব, সেসব দেশ থেকে আমদানি করলে ভোক্তারা কম দামে পণ্যটি পাওয়ার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি তাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


একই যুক্তিতে বিদেশ থেকে গরু ও মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশে চারণভূমির সীমাবদ্ধতা, পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গবাদিপশু পালন ও পরিচর্যার সামগ্রিক ব্যয়ের কারণে মাংস উৎপাদনে খরচ বেশি পড়ে। বিপরীতে বিশ্বের কিছু দেশে বিস্তৃত চারণভূমি এবং বড় পরিসরে গবাদিপশু পালনের সুবিধা থাকায় তুলনামূলক কম খরচে গরু ও মাংস উৎপাদন সম্ভব।


আইনজীবীর মতে, এসব দেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গরু ও মাংস আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভোক্তাপর্যায়ে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রতি কেজি মাংস ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবি নোটিশে জানানো হলেও আমদানি, শুল্ক ও বাজারব্যবস্থার পরিবর্তনে ঠিক কীভাবে ওই দাম নিশ্চিত হবে, তার বিস্তারিত হিসাব উল্লেখ করা হয়নি।


নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। এতে খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা বলা হয়। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং পুষ্টির মান উন্নয়নের স্বার্থে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা পর্যবেক্ষণে থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর