জুলাই
গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি)
শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে নৃশংসভাবে
হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যসহ ২৬ আসামির বিচারিক
প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সে
বিষয়ে আজ রোববার সিদ্ধান্ত
দেবেন আদালত।
আজ
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬)
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ মামলার আনুষ্ঠানিক
অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর
মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মানবতাবিরোধী
অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলায়
অভিযুক্ত মোট ২৬ আসামির মধ্যে
ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের
৮ জন শীর্ষ নেতাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার
মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক
নেতা। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার
কাজী আশরাফুল আজীমসহ ১৮ জন আসামি
বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের
আনীত প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা
এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়। সেসময় উবারচালক মোখলেছুর রহমানকে পুলিশের এপিসি দিয়ে পিষ্ট করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়ার নৃশংস বিবরণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই একই
এলাকায় পুনরায় গুলি চালিয়ে আরও চারজনকে হত্যার অভিযোগ এনে এটিকে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। চার্জ গঠিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিচার কাজ
শুরু হবে।