কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
দীর্ঘ ছয় বছর পর অবশেষে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দেশজুড়ে সুপরিচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমাকৃত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার চূড়ান্ত ওজন নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গণনার ফলাফলে পাওয়া গেছে অবিশ্বাস্য পরিমাণ সম্পদ—যার মধ্যে রয়েছে মোট ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম খাঁটি স্বর্ণ এবং ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রুপা। অলৌকিক ও ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় স্থানটির দানবাক্সে সাধারণ মানুষের দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অনুদান গণনা ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই মূল্যবান স্বর্ণ, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার কাজ শুরু করা হয়। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পরিমাপ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ। তিনি জানান, সোনা ও রুপার নিখুঁত হিসাব শেষ হলেও দানবাক্সে জমা পড়া বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার গণনাকার্যক্রম এবং নথিবদ্ধকরণের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
ওজন নির্ধারণ ও গণনা কার্যক্রম চলাকালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিগত ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমানো স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ ও হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ এবং ১৬৪ ভরি রুপা বিক্রি করে সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা সরকারি কোষাগারে বা মসজিদ ফান্ডে যুক্ত হয়েছিল। এর পাশাপাশি সে বছর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে নগদায়ন করে বাড়তি আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
বর্তমানে সবশেষ পাওয়া হিসাব ও প্রাপ্ত অনুদানের টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা রাখার পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের নিজস্ব তহবিলে নগদ মোট ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। ব্যাংকে রক্ষিত এই বিপুল অঙ্কের টাকা ছাড়াও আধুনিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি অনুদান হিসেবে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা সংগৃহীত হয়ে জমে রয়েছে। দান করা এই বিপুল অর্থ মসজিদ কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণ, বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, এতিমখানা পরিচালনা এবং নানামুখী জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।