ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,  ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

উপাচার্যের পদটি এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে: সাদিক কায়েম


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:০২ পিএম

দেশের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি ও সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নিয়োগ প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম মন্তব্য করেছেন যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিসি বা উপাচার্যের পদটি এখন এক বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সার্বিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া মন্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরেন।


নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেওয়া ওই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের অবলিম্বে অপসারণ দাবি করেন ডাকসু ভিপি। তিনি চুয়েটে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রশাসনিক ঘটনাকে নির্লজ্জতার চরম উদাহরণ আখ্যা দিয়ে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষই যাকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, দলীয় মদদে তিনি চোরের মতো ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ শিক্ষকের ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। চুয়েটের এই অসন্তোষজনক পরিস্থিতির জন্য তিনি নতুন প্রশাসনকে দায়ী করেন।


জাতীয় রাজনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, বিগত আট মাসের ব্যবধানে দেশের ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ে যোগ্যতার বদলে অন্ধ দাসত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তিনি অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে যেমন টেন্ডারবাজি ও উন্নয়ন কাজের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাহারাদারের কাজ করতো, ঠিক তেমনি বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ছাত্রদল একই ধরণের ভূমিকা পালন করে প্রশাসনের দারোয়ানে পরিণত হয়েছে। মূলত এই অনৈতিক সুরক্ষার কারণেই ভিসির পদটি এখন সেবামূলক না হয়ে ব্যবসায়িক রূপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


উল্লেখ্য, চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়োগ প্রাপ্তির দীর্ঘ ২১ দিন পর সোমবার সকালে নিজের কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা ক্যাম্পাসে জানাজানি হয়ে গেলে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তীব্র অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রধান ভবনের মূল ফটকে পুনারায় তালা ঝুলিয়ে দেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর