ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,  ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ অক্টোবর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজে ইউএই-এর জাহাজডুবি: সমুদ্রে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা: মন্ত্রী পূজার আলপনা না বিপজ্জনক ফাঁদ? ফ্লাইওভারে বাইক চলাচল বন্ধ জয়দেবপুরে আসামি ছিনাতে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আহত ২ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ঢাকা বিভাগে ৫১ হাজার ৪৪২ আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন আধুনিক বাংলা সুরের রূপকার হাবিব ওয়াহিদের জন্মদিন আজ নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে মারধর ক্ষুধা-দারিদ্র্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে পাকিস্তান ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

পিছিয়ে পড়েও গালাতাসারায়কে ৪-১ গোলে হারাল বার্সেলোনা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:০২ এএম

ম্যাচের আগে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে না চেনার কথা জানিয়েছিলেন গালাতাসারায়ের মিডফিল্ডার মারিও লেমিনা। এবার মাঠের লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে হেরে বার্সেলোনার শক্তিমত্তারই প্রমাণ পেল তাঁর দল। নিজেদের মাঠে গালাতাসারায়কে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা।

 

ম্যাচের আগে লেমিনা জানিয়েছিলেন, তিনি লামিনে ইয়ামালকে চেনেন না। তবে নিজের ক্লাব সতীর্থ লেরয় সানেকে চেনেন বলে মন্তব্য করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে আলোচনার পর ম্যাচের ফলাফল যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও মাঠের লড়াইয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যের চেয়ে দলের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে উঠেছে।

 

গালাতাসারায়ের ঘরের মাঠ রামস পার্কে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা। বাঁ দিক থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের কাটব্যাক পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন আলেক্সেই বাতরাকভ। বলটি বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় গালাতাসারায়।

 

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। তবে এর আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। ৩৪তম মিনিটে বারিস আলপার ইলমাজের করা একটি গোল প্রথমে বৈধ বলে মনে হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ে। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এতে স্বস্তি ফিরে পায় বার্সেলোনা, আর ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগও তৈরি হয়।

 

সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বেশি সময় নেয়নি কাতালান দলটি। ৩৭তম মিনিটে ওলমোর ট্যাকল থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ শটে গোল করেন পর্তুগিজ তারকা জোয়াও কানসেলো। তাঁর গোলে ১-১ সমতায় ফিরে আসে বার্সেলোনা। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

 

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা দেয় বার্সেলোনা। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের গতি এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে ক্রমেই এগিয়ে যেতে থাকে সফরকারীরা। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে সেই আধিপত্যের প্রতিফলন দেখা যায় স্কোরবোর্ডে। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ফেরমিন লোপেজ।

 

এই গোলে শুধু ব্যবধানেই এগিয়ে যায়নি বার্সেলোনা, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় দলটি। ইয়ামালের সৃজনশীলতা ও আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা আবারও সামনে আসে। ম্যাচের আগে তাঁকে না চেনার কথা বলা লেমিনার জন্যও ইয়ামালের পারফরম্যান্স আলোচনার নতুন উপলক্ষ তৈরি করে।

 

দ্বিতীয় গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫৩তম মিনিটে গোল করেন ইংলিশ তারকা অ্যান্থনি গর্ডন। লা লিগায় গোল করার এক দিনের মাথায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও নিজের নাম স্কোরশিটে তুলে নেন তিনি। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় গালাতাসারায়। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া বার্সেলোনা আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে।

 

ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল করে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেন জার্মান উইঙ্গার করিম আদেয়েমি। জেসুসের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইন নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। নিজেদের মাঠে বড় ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয় গালাতাসারায়কে।

 

বার্সেলোনার এই জয়ের পেছনে দ্বিতীয়ার্ধের কার্যকর আক্রমণ, সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্রুত সমতায় ফেরা এবং বিরতির পর অল্প সময়ের মধ্যে দুই গোল আদায় করে নেওয়া ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।

 

অন্যদিকে, শুরুতে এগিয়ে গেলেও সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি গালাতাসারায়। বাতিল হওয়া গোলের পর দলটির আক্রমণাত্মক ছন্দেও প্রভাব পড়ে। বিপরীতে বার্সেলোনা নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়েছে।

 

ম্যাচের আগে ইয়ামালকে না চেনার মন্তব্যের কারণে মারিও লেমিনার বক্তব্য এখন আলোচনায় থাকলেও, মাঠের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জবাব দিয়েছে। ৪-১ গোলের জয় নিয়ে বার্সেলোনা বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রতিপক্ষের তারকাদের পরিচয় নিয়ে মন্তব্য নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেয় শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর