ক্রীড়া ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে নামের পাশে কেবল একটি হার থাকলেও অলরেড সুলভ পারফরম্যান্সের অভাব স্পষ্ট ছিল লিভারপুলের খেলায়। মাঠে নামার আগে টানা কয়েক ম্যাচে জয়ের বদলে ড্রয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তবে নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা এবার হাড়েন হাড়েন টের পেল লাস্ক। প্রতিপক্ষকে তাদেরই মাঠে ৬-৩ গোলের বড় ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে যেন পুরনো রুপে ফিরল লিভারপুল।
জয়ের রাতে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেেড় নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। কেন তাকে বিপুল অর্থমূল্যে দলে ভেড়ানো হয়েছে, অলরেডদের জার্সিতে তারই যেন এক প্রদর্শনী দেখালেন এই তরুণ তারকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই লাস্কের রক্ষণভাগে চড়াও হয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজায় বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসরা। কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলের জন্য অবশ্য ২২ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় অলরেডদের। বার্সেলোনা থেকে ধারে লিভারপুলে আসা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রোনাল্ড আরাউহো কন্সটান্টিনস সিমিকাসের কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে দলের পক্ষে প্রথম গোল করেন, যা লিভারপুলের হয়ে তার প্রথম ক্যারিয়ার গোল।
এরপরই শুরু হয় বারকোলার গোল উৎসব। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। প্রথম ছয় ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্টের দেখা না পাওয়া বারকোলা প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ফ্লোরিয়ানের পাস থেকে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও উল্টো ৫১ মিনিটে সিমিকাসের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান ৪-০ করেন জেরেমি ফ্রিমপং। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে রবার্ট লুবিচিচ লাস্কের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। তবে এর তিন মিনিট পরেই জেরেমি ফ্রিমপংয়ের বাড়ানো পাস থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বারকোলা। লিভারপুলের জার্সিতে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক।
পরবর্তীতে ফ্রিমপংয়ের আরও একটি অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন লুইস কুমাস, তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬-১। ম্যাচের শেষ দিকে লাস্কের পক্ষে ফ্লোরিয়ান ফ্লেকার ৭৪ ও ৭৭ মিনিটে জোড়া গোল করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।