মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
জন্মগত ভাবে বামন প্রতিবন্ধী হয়েও কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি নুরুল করিম (৪০)। ছোট বেলা থেকে কঠোর প্ররিশ্রম করে সেই পরিশ্রমের উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্বল্প পুঁজিতে তাঁর বসত বাড়ির আঙিনায় গ্রামীণ সড়কের পাশে চা ও পানের দোকান নিয়ে বসেন। সেই পানের দোকান থেকে লাভ করে পুঁজি বাড়াতে বাড়াতে একাধারে চাল ডাল থেকে শুরু করে গৃহস্থলী সকল পণ্যের পরসা সাজিয়ে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু হঠাৎ একদিন কোমরের ব্যথা অনুভব করলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারেন তাঁর কোমরের হাঁড়ের হিট জয়েন্টের দুটি বল বিকল হয়ে পড়েছে। যার উন্নত চিকিৎসার প্রায় ৮ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। অতি দ্রæত অপারেশন করাতে না পারলে জীবন সংকটাপন্ন। এই কথা শোনার পর প্রতিবন্ধী করিমের সাজানো গোছানো পরিবারে মাঝে তৈরী হয় হতাশার গøানী। কিভাবে করাবেন এতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা? কিভাবে চালাবেন স্ত্রী সন্তান সহ ৫ সদস্যের পরিবার? তাই উপায় না পেয়ে নিয়তির কাছে হেরে বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চাইতে বাধ্য হয়েছেন মাঝ বয়সী এই প্রতিবন্ধী। বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে বাঁচানো যাবে তাঁর জীবন। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তার মা, স্ত্রী, ২ সন্তানসহ ৫ সদস্যের পরিবার।
বামন প্রতিবন্ধী নরুল করিম মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মাহাজন গ্রাম এলাকার আব্দুল হক সওদাগর বাড়ির মৃত মো. হানিফের ৭ সন্তানের মাঝে দ্বিতীয় পুত্র। দাম্পত্য জীবনে করিম
আকলিমা দম্পতি দুই পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলে সাদমান হোসেন কারিফ স্থানীয় সরকারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ছোট ছেলের সাব্বির হাসান বয়স দু’বছর ছুঁইছুঁই। বর্তমানে তিনি হাঁড়, জয়েন্ট ও মাংসপেশির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ আরিফুল ইসলাম এর আন্ডারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মোররে ব্যথা নিয়ে নুরুল কমির নামের ৪০ বছর বয়সী একজন রোগী আমার কাছে আসে। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ওই রোগীর হাঁড়ের হিট জয়েন্ট বিকল হয়েছে বলে ধরা পড়ে। অতিদ্রæত অপরেশনের মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন। প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি রোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো না।’
বামন প্রতিবন্ধী নুরুল করিম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম। প্রতিবন্ধকতার কারণে কারণে ভারী কাজ করতে পারতাম না। তাই কী করে জীবীকা নির্বাহ করবো ভেবে কুল পাচ্ছিলামনা। পরে চিন্তা করলাম আমি যেহেতু অসুস্থ মানুষ বাড়ির আঙিন একটি দোকান দিবো। সেই লক্ষ্যে কৃষিকাজ, দিনমজুরের কাজ করে পুজিঁ তৈরী করে চা ও পান সিগারেটের দোকান দিই। এই পানের দোকানের ইনকাম দিয়ে আত্মীয়দের থেকে সামান্য কিছু ধার নিয়ে দোকান বড়করে গৃহস্থলী সকল পণ্য রাখি। এরপর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ অসুস্থতায় দোকানে মালামাল তুলতে পারছিনা। দোকানের পুঁজিও চিকিৎসা খরচে ঢুকে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে অসুস্থ শরীল নিয়ে পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের অন্য বস্ত্রের জোগান দিয়েছি। আজ আমাকে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। এ ছাড়া আমার কোন উপায় নেই। জমিজামাও নাই যে বিক্রি করে চিকিৎসা খরচ জোগাড় করবো। পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের দ্বারা এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই আমি বিত্তবানদের সহযোগিতা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই। আপনারা আমাকে যে যা পারেন সাহায্য করুন। সাহায্য করার ঠিকানা বিকাশ/নগদ অ্যাকাউন্ট পার্সোনাল ০১৮১৮৪৮৪৫২৩।