ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

টিকটকে তান্ত্রিক সেজে নারীর সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:৫০ পিএম

টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার প্রচার করে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন ২৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান। এই প্রলোভনে ফেলে এক নারীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইলে ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুর রহমান।


পিবিআই জানায়, মিজানুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজেকে তান্ত্রিক এবং কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন। পারিবারিক সমস্যা সমাধান ও প্রেমের সম্পর্ক ঠিক করে দেওয়ার মতো নানা আশ্বাস দিয়ে তিনি বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। এসব প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পারিবারিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে ভুক্তভোগী নারী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমো এবং একটি মোবাইল নম্বরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কবিরাজির বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু হয়।


পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান ওই নারী। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চান। অভিযোগ রয়েছে, তখন তাঁকে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয়।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ৪ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ১০ অক্টোবর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (উত্তর) বিভাগ। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক।


তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৬ অক্টোবর জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রাম থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, মিজানুর রহমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিভিন্ন টিকটক অ্যাকাউন্টে নিজেকে পাগলা মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি মিজানুর রহমান হাড়, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীকে প্রাচীন কবিরাজির উপকরণ হিসেবে দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। এসব ভিডিও প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।


সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ কিংবা অলৌকিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শও দেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর