দেশজুড়ে
আজ মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোসের মহানবমী। আনন্দ আর উল্লাসের এই
ক্ষণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ভাগাভাগি করতে এবং ঢাকার বাইরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এক ঐতিহাসিক সফরে
রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো
সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে সরাসরি গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব
দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। ঢাকাই সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা পোস্ট’-এর এক বিশেষ
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পূজার আনন্দকে দেশবাসীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী ও
যুগান্তকারী সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে
ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি
হয়েছে।
আজ
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল
৯টায় প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে চড়ে রংপুরের উদ্দেশে সফল যাত্রা শুরু করেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথমে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে সড়কপথে সরাসরি রংপুরের ঐতিহাসিক ধর্মসভা বা রাধা গোবিন্দ
মন্দির পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী দুর্গোৎসব উপলক্ষে পর্যায়ক্রমে তিন বিভাগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফর করবেন। যার প্রথম গন্তব্য হিসেবে প্রথমে রংপুর, এরপর রাজশাহী এবং সবশেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পূজারীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়
করবেন।
রংপুরের
বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন
এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখানে দুপুর দেড়টায় তার রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনের কথা রয়েছে। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছু সময় বিশ্রাম নেবেন এবং পরবর্তীতে বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করবেন।
এরপর
রাজশাহী থেকে বিমানে করে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে সন্ধ্যায় নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
করবেন। সবশেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ শেষে রাতের বেলা বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাজধানীতে ফিরে আসবেন।
উল্লেখ্য,
এর আগে গত রোববার রাতে
প্রধানমন্ত্রী ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামণ্ডপ
সশরীরে পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শারদীয় শুভেচ্ছা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় ডা.
জুবাইদা রহমান তার সাথে সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ উদযাপিত হচ্ছে
দুর্গাপূজার মহা নবমী এবং আগামীকাল বুধবার দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবের।
প্রধানমন্ত্রীর এই ত্রিদেশীয় জেলা
সফর ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতিকে আরও
সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।