প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার ‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান এই রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে এই বিষয়ে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।]
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে রাজধানীর গুলশান থানায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিগত ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে গুলশান অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও প্রধান কার্যালয়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
সিআইডির নিবিড় অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব, জব্দকৃত নথিপত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে এলসির মাধ্যমে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণবার, অলংকার ও হায়ার ডায়মন্ড আমদানি করেছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে যে, একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে মোট ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কিনেছে, যার পক্ষে কোনো ধরনের বৈধ নথিপত্র বা উৎসের প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে যে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের আড়ালে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে চোরাকারবারের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং গত বছরের শেষের দিকে সব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন। নতুন করে এই মানিলন্ডারিং ও চোরাচালান মামলায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।