পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক নেতাসহ মোট দুজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সান্ধ্যকালীন সময়ে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় পুরো পাবনা জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক, টানটান উত্তেজনা এবং থমথমে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতপরিচয় একদল দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই আতাইকুলা এলাকায় অবস্থানরত ওই বিএনপি ও শ্রমিক দল নেতা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীর ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত কাছে থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে পর পর বেশ কয়েকটি গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়ে। গুলির তীব্র শব্দে আশপাশের এলাকার লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে ভয়ে ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে আশঙ্কাজনক পরিবেশ তৈরি হলেও উদ্ধার তৎপরতার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে নাকি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে, তা অনতিবিলম্বে উদঘাটনের দাবি তুলেছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সকল খুনিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সানিয়ত ও সন্দেহভাজন পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত দুর্বৃত্তদের পরিচয় এবং নিহতদের বিস্তারিত নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।