ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় ইয়াছিন ও তার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে যুবদলকর্মী মেহেদী হাসান রাকিব (২৮) খুন হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সদস্য ইয়াছিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
নিহত রাকিবের বাবা মজিবর রহমান বাদি হয়ে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে পাগলা থানায় মামলাটি করেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে মামলায় বিবরণে উঠে এল হত্যার এক লোমহর্ষক বর্ননা। হত্যায় অংশ নেয়া আসামীদের তান্ডবে উপস্থিত মেহেদিকে বাঁচাতে এগিয়ে যেতে সাহস করেননি। আসামীদের মারধরে মেহেদি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে টেনে হেছড়ে স্থানীয় ফারুক মাওলানার দোকানের পেছনের নিয়ে যায়। তারপর হত্যায় অংশ নেয়া মিজু মিয়া মেহেদি হাসান রাকিবের চোখ চেপে ধরে, নজরুল শেখ হাত, জাহিদুল ডান পা, তাইজুল বাম পা, মন্তাজ ও বেলাল কোমর চেপে ধরে রাখে। পরে প্রধান আসামী ইয়াছিনসহ জিয়াউল, মোফাজ্জল ও পারভেজ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি ভারী ইটের পাট্টা দিয়ে মেহেদির মাথায় কয়েকবার সজোরে আঘাত করে মাথায় খুলি চ‚র্ন-বিচ‚র্ন করে দেয় এবং মুখ থেতলে বীভৎস হত্যাকান্ড ঘটায়।
এর আগে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী বাজার পল্টনমোড়ে সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মেহেদিকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা-মুখ থেতলে হত্যা করা হয়। ওই সময় সাবিদ নামে এক যুবক গুলিবৃদ্ধ হয়।
ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব তললী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সদস্য ইয়াছিন খান ও তার বাহিনীর সাথে ফসলি জমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধ চলছিল যুবদলকর্মী মেহেদি হাসান রাকিবের। এ নিয়ে ত্রিমোহনী পল্টনমোড়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাকিবকে যুবদল নেতা ইয়াছিনসহ অন্য আসামিরা পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা-মুখ থেতলে হত্যা করে। হত্যাকান্ডে জড়িতরা সবাই পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর অনুসারী দাবী নিহতের পরিবারের লোকজনের।
নিহত রাকিবের বাবা মজিবর রহমান ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, তার ফসলি জমি থেকে বিএনপি নেতা ইয়াছিন, জিয়াসহ আরও কয়েকজন মাটি কেটে নিচ্ছিল। এ সময় তার ছেলে রাকিব বাধা দেয়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিবকে ইয়াছিনসহ অন্য আসামীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এর আগেও এই বাহিনী নিগুয়ারী ইউনিয়নে অনেক মাছের খামার দখল ও মাছ লুট করেছে। এ হত্যাকান্ডে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
এ ব্যাপারে পাগলা থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।