ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ছবিলা বেগম ইফতার করেন মুড়ি ও পানি দিয়ে


ছবিলা বেগম ইফতার করেন মুড়ি ও পানি দিয়ে । ছবিঃ আনারুল ইসলাম রানা

  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ মে, ২০২৫ সময় : ৩:২৮ এএম

উওরের জনপদ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরের ছবিলা বেগম। স্বামী পরিত্যক্তা   নারী ভাইয়ের বাড়িতে থাকেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে চলে সংসার। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। লবন আনার টাকাও মাঝে- মাঝে থাকে না, ইফতার যেন তার কাছে কল্পনা। ইফতারিতে   আলু সিদ্ধ ভাতই যেন তার ভরসা।



শুধু ছবিলা বেগম নয়, অধিকাংশ  চরাঞ্চলের  মানুষের জীবনে ইফতারের সামগ্রী  হচ্ছে চাল ভাজা, মুড়ি,চিড়া,ভুট্টার ছাতু কিংবা  বাদামের গুড়া। মাঝে-মাঝে কারো ভগ্যে  তাও জোটে না। নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত এসব মানুষ কোন একটি চরে স্বপ্ন নিয়ে বসতি গড়লেও নদী ভাঙ্গনে তা ছিন্ন হয়ে যায়।দুবলা দুমুঠো খাদ্যের সংস্থানে দিনরাত পরিশ্রম করা এসব মানুষের জীবনে  ইফতারি তাই  বিলাসিতা    এসব পরিবারের রমজানের বিকেলেও থাকে না রান্নার দৌড়ঝাপ।ইফতারি কিংবা সেহেরিতে বিশেষ কোন আয়োজন করার সৌভাগ্য হয় না তাদের।



শহরে ইফতারিতে বাহারি আয়োজন থাকলেও, কুড়িগ্রামে চারের মানুষের জীবনে ইফতার যেন স্বপ্নই থেকে যায়।  নানাবিধ সংকটে থাকা অঞ্চলের মানুষের ইফতারিতে বাহারি আয়োজন তো দুরের কথা, এখানে চাল ভাজা, মুড়ি বা পানি  দিয়েও হয় ইফতার।


এই জেলায় তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র সহ ১৬ টি নদনদী আছে। এসব নদীর অববাহিকায় শত অধিক চরাঞ্চল রয়েছে। জেলায় বসবাসকারী ২৪ লক্ষ জনসংখ্যার প্রায় লক্ষ মানুষ এই চরাঞ্চলে  বসবাস করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে নানাবিধ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা।


ছবিলা বেগম  বলেন , 'মাইনসের ( অন্যরবাড়িতে কামলা দিয়ে  খাই। কখনো জোগাড় করতে পারলে খাই, না পারলে না খাই।স্বামী নাই,ভাইয়ের বাড়িতে থাকি।একটা মেয়ে আছে তাকে বিয়ে দিয়েছি।কখনো- কখনো এক পোয়া নুন(লবন) আনার টাকা থাকে না ইফতারি পাবো কোথায় ?'


একই এলাকার সাহিনা বেগম বলেন,'বাদাম চালের খুদ গুড়া করে রেখেছি। তাকে দিয়ে ইফতারি করি।গরিবের সংসার, বারে- বারে চর ভাঙে। আমাদের বেঁচে থাকাটাই সংগ্রামের,


এন্তাজ আলী বলেন, 'আমরা ইফতারি করি পানি দিয়ে। তারপর ডাল ভাত যা পাই তাই খাই।ছেলেমেয়েরা মাঝে মধ্যে বায়না ধরে। তাদের বুঝ দিয়ে রাখি।কিছু তো আর করার নাই,


রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, 'বর্তমানে জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন চরের মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তারা অনেক পিছিয়ে আছে।তাদের খাদ্য তালিকার অনেক সুষম খাবার তারা পায় না।  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি যেসব সুযোগ- আছে, যেমন জি আর বা অনান্যে খাদ্যশস্য বা সময়-সময় যেসব সুযোগ আছে আমরা  চরের মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি,



এ সম্পর্কিত আরো খবর