ক্রীড়া প্রতিবেদক
৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। তারই ধারাবাহিকতা বিভিন্ন ফেডারেশন ও সংস্থায় বদল এসেছে। এবার আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের। শনিবার (৩ মে) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনয়াতনে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে চমক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এছাড়া এ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশ
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া
সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উঠে আসে টাইগার
অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কথা।
তার প্রসঙ্গে টেনে বিএনপির স্থায়ী
কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ জানান,
সাকিব আল হাসানকে রাজনীতিতে
যোগ দিতে না করেছিলাম।
রাজনীতিতে যোগ না দিলে
টাইগার অলরাউন্ডার এখন সম্মানের সঙ্গে
ঢাকার রাজপথে বিচরণ করতেন বলেও মন্তব্য করেন
তিনি।
আওয়ামী
লীগের হয়ে গত বছরের
জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ
নিয়ে মাগুরা-১ আসন থেকে
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। এরপরের গল্পটা সবার জানা।
সে
দিনের স্মৃতিচারণ করে মেজর হাফিজ
বলেন, ‘সাকিব আল হাসান আমার
বাসায় এসেছিলেন একদিন। আমার পরিচিতি সামরিক
বাহিনীর এক কর্মকর্তা তাকে
আমার বাসায় নিয়ে এসেছিলেন। অনেক
কথাবার্তার এক ফাঁকে তাকে
একটা উপদেশ দিয়েছিলাম, যেটি সে গ্রহণ
না করে বিপদে পড়েছে।
তাকে বলেছিলাম, যা করো না
করো আওয়ামীলীগ কখনো করবা না।
সে এটা শুনে একটু
বিমর্ষ হলো। তার ধারণা
সে আওয়ামী লীগে গেলে মন্ত্রী
হবে, অনেক কিছু হবে।’
হাফিজ
যোগ করেন, ‘তাকে বলেছিলাম, জাতীয়
দলে খেলা অবস্থায় রাজনীতিতে
যোগ দেয়া এটি ঠিক
আমার মনঃপুত হচ্ছে না। তোমার অনেক
নাম রয়েছে। বেশ কয়েক বছর
ধরে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে
তোমাকে দেখছি। তুমি রাজনীতিতে এখন
যেও না। আর গেলেও
এ দলটির (আওয়ামী লীগের) বেশিদিন আয়ু নেই। সে
চুপচাপ থেকে খানিকক্ষণ পর
চলে গেল। যদি সে
আমার কথা শুনতো, এ
ধরনের রাজনীতিতে না যেত। আজকে
সে অনেক সম্মানের সঙ্গে
ঢাকার রাজপথে বিচরণ করতে পারতো। এখন
তো তার বাড়ি আসাই
মুশকিল হবে।’
একই
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবালও। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে তামিমকেও সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মেজর হাফিজ। পরামর্শ
দিয়েছে সব জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদদের
একজন পরামর্শদাতা রাখার।
তিনি
বলেন, ‘এখানে আরও যারা তারকা
ফুটবলার, ক্রিকেটার আছে। বিশেষ করে
তামিম ইকবালকেও বলব। তামিমের যথেষ্ট
নাম হয়েছে।প্রত্যেক জনপ্রিয় ক্রিকেটারের একজন পরামর্শদাতা দরকার।
যে সব সময় তাকে
লেভেল হেডেড রাখবে। তারা মাথা যেন
বিগড়ে না যায়। অল্প
বয়সে অর্থ সমাগমের কারণে
তার যেন কোনো বদ
অভ্যাস গড়ে না ওঠে।
এক সময় সিনিয়র খেলোয়াড়রা
জুনিয়র খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিয়ে লাইনে রাখতে
পারত। আমরা আমাদের সিনিয়রদের
পরামর্শ নিতাম এবং মেনে চলার
চেষ্টা করতাম।’
আওয়ামী
লীগ সরকার অনেক তারকা ক্রীড়াবিদকে
বিপদে ফেলেছে উল্লেখ করে মেজর হাফিজ
বলেন, ‘এরা অনেক ক্রীড়াবিদকেও
বিপদে ফেলেছে। এদেশের যারা তারকা ক্রীড়াবিদ,
জাতীয় দলে খেলছে, যেমন
সাকিব আল হাসান, তামিম
ইকবাল, মাশরাফি বিন মুর্তাজা। এরা
জাতীয় দলে খেলা অবস্থাতেই
রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। কেউ
কেউ এমপি হয়েছে। তামিম
যোগ দেয়নি। কিন্তু এদেরকে অনেকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।’