ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কাস্টমসে কর্মবিরতি : জটের কবলে চট্টগ্রাম বন্দর


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৫ মে, ২০২৫ সময় : ৪:২৬ পিএম

একের পর এক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কর্মসূচির কারণে ব্যাহত হচ্ছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম। জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস হচ্ছে। কিন্তু বিপরীতে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারছেন না আমদানিকারকরা। কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির প্রতিবাদে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো কাজ করছেন না। এতে শুল্কায়ন ও পরীক্ষাসহ কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বন্দরের কনটেইনার রাখার জায়গা একেবারেই ফুরিয়ে যাবে এবং বন্ধ করতে হবে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস।

 বন্দর কর্মকর্তারা জানান, বন্দর ইয়ার্ডে মোট ৫৩ হাজার টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তবে অপারেশনাল কার্যক্রমে সুষ্ঠুভাবে করার জন্য কিছু জায়গা খালি রাখতে হয়। মোট ৪৫ হাজার টিইইউসের বেশি বন্দরে কনটেইনার রাখার সুযোগ নেই। বন্দরে বর্তমানে প্রায় ৪১ হাজার টিইইউস কনটেইনারের স্তূপ জমেছে। আবার দৈনিক গড়ে জাহাজ থেকে প্রায় এক হাজার টিইইউস কনটেইনার খালাস হচ্ছে। কিন্তু এ পরিমাণ কনটেইনার এখন বন্দর থেকে খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। ফলশ্রুতিতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস বন্ধ করে দিতে হবে।

বন্দরে স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৩ হাজার কনটেইনার থাকে। গত ৩ মাসে কনটেইনারবাহী গাড়িচালক-শ্রমিকেরা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন। সর্বশেষ ১৫ মে কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের কর্মসূচির কারণে বন্দর থেকে যথাসময়ে কনটেইনার বের করতে পারেননি আমদানিকারকরা। এতে করে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার সংখ্যা ৩৬ হাজার টিইইউস ছাড়িয়ে যায়। আবার গত ১৪ মে থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কর্মসূচির কারণে এটির সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, শ্রমিকদের কর্মসূচি না থাকলেও এনবিআরের কর্মবিরতির প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিতাদেশের মধ্যে রপ্তানি করতে হলে এখনই কাঁচামাল হাতে পাওয়া জরুরি। কিন্তু পণ্য হাতে পেতে দেরি হওয়ায় তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ফাল্গুনী ট্রেডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল খান বলেন, আজকেও (রোববার) কোনো শুল্কায়ন হয়নি। কয়েকদিনে কনটেইনার ভেদে চারগুণ পর্যন্ত মাশুল দিতে হচ্ছে।

বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে দিয়ে যত আমদানি-রপ্তানি হয় তার ৯৫ শতাংশই শুল্কায়ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে। এ স্টেশনের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কারণে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, প্রতি ঘণ্টায় কনটেইনার নামছে, সেই হারে খালাস না হওয়ায় জট তৈরি হচ্ছে। শুল্কায়ন বন্ধ থাকায় ডেলিভারির গতি কমে গেছে। কয়েকদিন এমন চললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর